এশিয়ার প্রাচীনতম বাংলা সংবাদপত্র প্রথম প্রকাশ ১৯৩০

প্রিন্ট রেজি নং- চ ৩২

১২ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৯শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
২৪শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

……………………………

সিলেটে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের কর্মশালা

Daily Jugabheri
প্রকাশিত ১২ জানুয়ারি, সোমবার, ২০২৬
সিলেটে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের কর্মশালা

সুবর্ণা হামিদঃ সিলেটে বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় বিচার ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং এর প্রচার–প্রসারে গণমাধ্যমের ভূমিকা শীর্ষক এক বিশেষ মতবিনিময় সভা ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন-গ্রাম আদালত আইন–২০০৬ অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ দ্রুত, সহজ ও স্বল্প খরচে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গ্রাম আদালত গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে গ্রাম আদালত সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা মূল্যমানের মামলা নিষ্পত্তি করতে পারে। এখানে কোনো আইনজীবীর প্রয়োজন হয় না বলে সাধারণ মানুষ সহজেই ন্যায়বিচার পায়।
ফৌজদারি মামলার জন্য মাত্র ১০ টাকা এবং দেওয়ানি মামলার জন্য ২০ টাকা ফি দিয়ে আবেদন করা যায়। নারী–সংক্রান্ত মামলায় গ্রাম আদালতের প্যানেল সদস্য হিসেবে নারীর উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। এছাড়া কোনো পক্ষকে পরাজিত না করে সমঝোতার ভিত্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা থাকায় সামাজিক শান্তি বজায় থাকে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেটের জেলা প্রশাসক মোঃ সারওয়ার আলম বলেন-গ্রাম আদালত তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের জন্য ন্যায়বিচার পাওয়ার একটি কার্যকর ও সহজ প্ল্যাটফর্ম। গ্রাম আদালত সক্রিয় হলে সাধারণ মানুষকে ছোটখাটো বিরোধ নিয়ে থানা বা উচ্চ আদালতে যেতে হবে না।
তিনি আরও বলেন, গ্রাম আদালতের কার্যক্রম শক্তিশালী হলে উচ্চতর আদালতের ওপর মামলার চাপ অনেকাংশে কমে আসবে। এ ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও গণমাধ্যমকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক (উপসচিব) সুবর্ণা সরকার। তিনি বলেন, গ্রাম আদালতের এখতিয়ার ও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এছাড়া প্রকল্প সমন্বয়কারী এনালিস্ট ড. শঙ্কর পাল এবং লিগ্যাল এনালিস্ট ব্যারিস্টার মশিউর রহমান চৌধুরী গ্রাম আদালত আইন ও এর প্রায়োগিক দিক নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা প্রদান করেন।
কর্মশালায় জানানো হয়, ধর্ষণ, খুন, অপহরণ, ডাকাতি, যৌতুকসহ গুরুতর অপরাধ গ্রাম আদালতের বিচার্য বিষয় নয়। একইভাবে স্থাবর সম্পত্তির স্বত্বাধিকার সংক্রান্ত জটিলতা এবং ৩ লাখ টাকার বেশি মূল্যের কোনো বিরোধ গ্রাম আদালতে নিষ্পত্তিযোগ্য নয়।
প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ে গ্রাম আদালতকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীদের একযোগে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, গ্রাম আদালতের কার্যক্রম গতিশীল হলে তৃণমূল পর্যায়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক বিচার ব্যবস্থার ওপর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে স্যোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন