
যুগভেরী ডেস্ক ::: প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রযুক্তিগত শিক্ষার পাশাপাশি জাপানী ভাষা শিক্ষা প্রদানের উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
মন্ত্রী বলেন, বিশ্বের কৃষি নির্ভর দেশগুলতে বাংলাদেশি দক্ষ লোকদের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও ভাষাগত ধারনা না থাকায় সেই সব দেশে অনেকেরই কর্ম সংস্থান হয় না। জাপানে দক্ষ শ্রমিকদের চাহিদা রয়েছে। তাই জাপানি ভাষা শিখলে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে।
মন্ত্রী শনিবার বিকেলে সিলেট সিকৃবিতে ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (লেভেল-১ সেমিস্টার-১) প্রথম বর্ষে ভর্তিকৃত নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ওরিয়েন্টেশনে সভাপতিত্ব করেন সিকৃবি’র ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো: আলিমুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সিলেট ৬ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী,কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্দিকেট সদস্য ও বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. এ এস এম গোলাম হাফিজ কেনেডি।স্বাগত বক্তব্য রাখেন অরিয়েন্টেশন বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি প্রফেসর ড. জসিম উদ্দিন আহাম্মদ।
প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও সভাপতির বক্তব্যে সিকৃবি’র ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ আলিমুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি চরিত্র গঠনের, নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জনের এবং ভবিষ্যৎ জীবনের ভিত্তি নির্মাণের এক অমূল্য সময়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সুযোগ-সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে তোমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। ক্যাম্পাসের নিয়মকানুন মেনে চলা তোমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমরা একটি শতভাগ র্যাগিংমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের বিশাল ও ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যাকে দেশের বোঝা নয়, বরং দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করাই এখন মূল উদ্দেশ্য। এ জন্য কেবল প্রথাগত পড়ালেখায় সীমাবদ্ধ না থেকে কারিগরি শিক্ষা, সফট স্কিল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল সাক্ষরতা এবং শিল্পখাতের চাহিদাভিত্তিক শিক্ষায় তোমাদের দক্ষ হয়ে উঠতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিলেট-০৬ এর সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, শিক্ষা আমাদের সরকারের এবং সর্বোচ্চ নেতৃত্বের প্রথম ও প্রধান অগ্রাধিকারের বিষয়। বাজেটে এ খাতকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষাখাতের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির যে মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তার সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য হলো—বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে অন্যতম শীর্ষ ‘সেন্টার অফ এক্সিলেন্স’ বা আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ‘এডুকেশন হাব’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর মতো আমাদের দেশেও শিক্ষা খাত ভবিষ্যতে বিশাল অর্থনৈতিক ও বৈশ্বিক সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ও বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের বিজ্ঞ সদস্য প্রফেসর ড. এ এস এম গোলাম হাফিজ কেনেডি বলেন, তোমাদের কেন্দ্র করে প্রতিটি বাবা-মায়ের চোখে অনেক বড় স্বপ্ন আঁকা রয়েছে। জীবন গড়ার এই সময়টিই তোমাদের জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ সময়। সব ধরনের অপসংস্কৃতি ও অপরাজনীতি পরিহার করে, আত্মনির্ভরশীল হয়ে পড়ালেখায় মনোযোগী হওয়াই হোক আজকের শপথ।
আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে সন্ধা সাড়ে ৭টায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সংবাদটি ভালো লাগলে স্যোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন