এশিয়ার প্রাচীনতম বাংলা সংবাদপত্র প্রথম প্রকাশ ১৯৩০

প্রিন্ট রেজি নং- চ ৩২



……………………………

বিশ্বের বৃহত্তম বাঁধ নির্মাণ করছে চীন, বিপাকে ভারত

Daily Jugabheri
প্রকাশিত 20 June, Saturday, 2026
বিশ্বের বৃহত্তম বাঁধ নির্মাণ করছে চীন, বিপাকে ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::: তিব্বতে ইয়ারলুং সাংপো নদীর নিম্ন অববাহিকায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে চীন। অরুণাচল প্রদেশ সীমান্ত থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই বিশাল প্রকল্পকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ভারতে। এরই মধ্যে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় নিজেদের কৌশলগত পরিকল্পনা জোরদার করছে নয়াদিল্লি।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের ৬০ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন মেডোগ হাইড্রোপাওয়ার প্রকল্প বর্তমানে নির্মাণাধীন। এর পালটা জবাব হিসেবে ভারত অরুণাচল প্রদেশের আপার সিয়াং ও সিয়াং জেলায় প্রস্তাবিত ১১ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রজেক্ট (এসইউএমপি) বাস্তবায়নের উদ্যোগ এগিয়ে নিচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এনএইচপিসি পরিচালিত এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এটি হবে ভারতের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র।

প্রকল্পটি থেকে বছরে প্রায় ৪৭ বিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় এক লাখ ৫০ হাজার কোটি রুপির সমান।

তবে দুই দেশের প্রকল্পের অগ্রগতিতে রয়েছে স্পষ্ট পার্থক্য। যেখানে চীনের মেডোগ প্রকল্পের নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে, সেখানে ভারতের এসইউএমপি এখনো সম্ভাব্যতা যাচাই ও প্রাথমিক প্রস্তুতির পর্যায়ে রয়েছে। নির্মাণ-পূর্ব কার্যক্রমও এখনো শুরু হয়নি।

ইয়ারলুং সাংপো নদী ভারতে প্রবেশের পর ‘সিয়াং’ নামে পরিচিত হয় এবং পরে ব্রহ্মপুত্র নদে রূপ নেয়। এই নদী অরুণাচল প্রদেশ ও আসামের লাখো মানুষের জীবিকা, কৃষি ও পরিবেশের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, উজানে এত বড় বাঁধ নির্মিত হলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এর ফলে কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও স্থানীয় পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি হঠাৎ ও ভয়াবহ বন্যার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সম্প্রতি লোকসভায় লিখিত জবাবে জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় চীনের সব ধরনের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিম্ন অববাহিকার মানুষের জীবন ও জীবিকা সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ও সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে সরকার।

নয়াদিল্লি দীর্ঘদিন ধরে আন্তঃসীমান্ত নদী প্রকল্পে স্বচ্ছতা, তথ্য আদান-প্রদান এবং আগাম পরামর্শের বিষয়ে বেইজিংয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছে। তবে এ ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি এসইউএমপি প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো নিম্নাঞ্চলের মৌসুমি বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং উজানের সম্ভাব্য পানি প্রত্যাহার বা প্রবাহ পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা করা। ফলে প্রকল্পটির অর্থনৈতিক গুরুত্বের পাশাপাশি কৌশলগত ও ভূরাজনৈতিক গুরুত্বও অত্যন্ত বেশি।

এদিকে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পূর্বাভাস ব্যবস্থা, নদী পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক এবং অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজও জোরদার করা হচ্ছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে স্যোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
20 June 2026

বিশ্বের বৃহত্তম বাঁধ নির্মাণ করছে চীন, বিপাকে ভারত

বিস্তারিত কমেন্টে