এশিয়ার প্রাচীনতম বাংলা সংবাদপত্র প্রথম প্রকাশ ১৯৩০

প্রিন্ট রেজি নং- চ ৩২



……………………………

যান্ত্রিক ত্রুটিতে বন্ধ কুমারগাঁও বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিলেটে অসহনীয় লোডশেডিং

Daily Jugabheri
প্রকাশিত time ago 5 hours
যান্ত্রিক ত্রুটিতে বন্ধ কুমারগাঁও বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিলেটে অসহনীয় লোডশেডিং

যুগভেরী ডেস্ক ::: রোববার রাতে সিলেট নগরের জালালাবাদ এলাকা থেকে সিলেটটুডে কার্যালয়ে ফোন করেন এক ব্যক্তি। ফোন করেই তার প্রশ্ন- ‘ভাই, আমরা বাঁচতাম কিলা?’

তিনি জানান, সন্ধ্যা থেকে এ পর্যন্ত তিনবার বিদ্যুৎ চলে গেছে। প্রতিবার গেলে ঘন্টাখানেক পরে আসে। এর কিছুক্ষণ পর আবার চলে যায়।

ওই ব্যক্তি বলেন, এমনিতেই গরমে অবস্থা খারাপ। তার উপর ঘন্টায় ঘন্টায় লোেশেডিং। ঘরে বাচ্চাকাচ্চারা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বড়রাও থাকতে পারছে না।

এমন অভিযোগ সিলেটের প্রায় সব বাসিন্দার। এমনিতেই সিলেটে ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকে না। তবে গত ২/৩ ধরে লোডশেডিংয়ের মাত্রা আরও বেড়েছে। তীব্র গরমের সাথে অসহনীয় লোডশেডিংয়ে রীতিমত ‘নরক যন্ত্রণা’ ভোগ করতে হচ্ছে নগরবাসীকে।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সিলেটের কুমারগাওয়ে ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে। একারণে বেড়েছে লোডশেডিং। এ অবস্থা আরও কয়েকদিন থাকতে পারে বলে ধারণা সংশ্লিস্টদের।

নগরের জিন্দাবাজার এলাকার দর্জি ব্যবসায়ী সাজ্জাদ হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, দিনের বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎ থাকে না। ফলে গ্রাহকদের চাহিদামত কাপড় ডেলিভারি দিতে পারছি না। সারাদিনেও একটা পেন্ট সেলাই করা যায় না। একারণে ব্যবসার অবস্থা খুবই খারাপ। অথচ সব জিনিসপত্রের দাম বেড়েই চলছে। আমাদের খেয়ে বাঁচাই দায় হয়ে ওঠেছে।

টিলাগড় এলাকার গৃহিনী সালেহা আক্তার বলেন, দিনের চেয়ে রাতে বেশি লোডশেডিং হয়। ফলে বাচ্চাকাচ্চারা পড়ালেখা করতে পারে না। স্কুলের হোম ওয়ার্ক করে নিতে পারে না। এমন অবস্থা চলতে থাকলে পরীক্ষার ফলও খারাপ হবে।

গ্রাহকরা জানান, সিলেটে দিনে-রাতে প্রায় প্রতি ঘণ্টাতেই বিদ্যুৎবিভ্রাট চলছে।শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলের চিত্র আরও ভয়াবহ। পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকরা দিনে ৫ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ছেন।

এ ব্যাপারে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সিলেট অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী ইমাম হোসেন রোববার রাতে সিলেটটুডেকে বলেন, ৩/৪ দিন ধরে কুমারগাওয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে। এতে এই কেন্দ্রটিতে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। একারণে লো-ভোল্টেজের সমস্যা হচ্ছে। ভোল্টেজ ঠিক রাখতে লোডশেডিং বাড়াতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, কুমারগাওয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বাল্বে সমস্যা হয়েছে বলে শুনেছি। আগামীকাল বিদেশ থেকে নতুন বাল্ব আসবে। এরপর তা মেরামত করা হবে। তবে এতে কতদিন সময় লাগবে তা আমার জানা নেই।

রোববার সন্ধ্যায় সিলেটে ৬০ মেঘাওয়াটের মতো লোডশেডিং ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, সন্ধ্যায় চাহিদা ছিল ২৫৫ মেঘাওয়াট। ১৯০ মেঘাওয়াটের মতো সরবরাহ পেয়েছি। বাকীটুকু লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

সন্ধ্যার পর বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ায় লোডশেডিংও বেড়ে যায় বলে জানান তিনি। তবে কুমারগাও বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু থাকলে এতো লোডশেডিং হতো না বলে দাবি এই কর্মকর্তার।

সংবাদটি ভালো লাগলে স্যোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
27 September 2026

যান্ত্রিক ত্রুটিতে বন্ধ কুমারগাঁও বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিলেটে অসহনীয় লোডশেডিং

বিস্তারিত কমেন্টে