
যুগভেরী ডেস্ক ::: সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের আসন্ন পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ৫ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে চেম্বার অব কমার্সের হলরুমে এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন চেম্বারের প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা।
গত বছরের ১ নভেম্বর সিলেট চেম্বারের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্বাচনের ঠিক আগ মূহূর্তে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ নির্বাচন স্থগিত করে। পরে উচ্চ আদালত স্থগিতাদেশ তুলে নিলেও ভোটগ্রহণ আর হয়নি। অবশেষে একবছর হতে যাচ্ছে ভোটগ্রহণ।
বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা ২০২৫ অনুযায়ী দুই বছর মেয়াদি এই পরিচালনা পরিষদে একজন সভাপতি, একজন সিনিয়র সহ-সভাপতি, একজন সহ-সভাপতি এবং ২৪ জন পরিচালকসহ মোট ২৭ সদস্য নির্বাচিত হবেন।
চেম্বারের প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা জানান, তিন সদস্যবিশিষ্ট নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা) আয়েশা আক্তার। বোর্ডের অন্য দুই সদস্য হলেন সহকারী কমিশনার তানভীর আহমেদ সজীব এবং সহকারী কমিশনার লাবণ্য ইসলাম।
এ ছাড়া নির্বাচন আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন স্থানীয় সরকারের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক মোহাম্মদ মাসুদ রানা। আপিল বোর্ডের সদস্য হিসেবে রয়েছেন মোহাম্মদ পারভেজ এবং মাসুমা ইসলাম লোনা।
নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান আয়েশা আক্তার সাংবাদিক ব্রিফিংয়ে নির্বাচনের বিস্তারিত তফসিল ঘোষণা করেন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী প্রাথমিক ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে ১৩ সেপ্টেম্বর, এই তালিকার বিরুদ্ধে আপত্তি দাখিলের শেষ সময় ১৫ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টা পর্যন্ত এবং আপত্তি নিষ্পত্তি হবে ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে ২০ সেপ্টেম্বর।
মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও দাখিল করা যাবে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হবে ৩ অক্টোবর। মনোনয়নপত্র বাতিল হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী আপিল বোর্ডের কাছে আপত্তি জানাতে পারবেন, যার শুনানি ও নিষ্পত্তি চলবে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে। বৈধ প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের নোটিশ দেওয়া হবে ১২ অক্টোবর।
প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৫ অক্টোবর দুপুর ১২টা পর্যন্ত। প্রত্যাহারের পর একই দিন প্রকাশ করা হবে বৈধ মনোনীত প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা।
তাছাড়া ৫ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ফলাফলের বিরুদ্ধে আপত্তি দাখিল করা যাবে ভোটের দিন থেকে পরবর্তী কয়েক দিন, যার শুনানি ও নিষ্পত্তি চলবে এর পরের সপ্তাহে। সবশেষে নির্বাচন বোর্ড কর্তৃক চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হবে ১০ নভেম্বর বিকেলে।
নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান আয়েশা আক্তার জানান, বিধিমালা অনুযায়ী নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখের ৮০ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করতে হয় এবং ভোটের ৬০ দিন আগে পর্যন্ত বকেয়া পরিশোধ করে সদস্যপদ নবায়ন করলে সংশ্লিষ্ট সদস্য ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন। ৫ নভেম্বরের ভোট তারিখ থেকে হিসাব করে ৬ সেপ্টেম্বরকে সদস্য নবায়নের শেষ দিন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এর পরে যাঁরা সদস্যপদ নবায়ন করবেন, তাঁরা এবারের নির্বাচনে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন না।
সংবাদটি ভালো লাগলে স্যোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন