এশিয়ার প্রাচীনতম বাংলা সংবাদপত্র প্রথম প্রকাশ ১৯৩০

প্রিন্ট রেজি নং- চ ৩২

১৩ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৭শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

……………………………

ঈদের তৃতীয় দিনে পর্যটকে মুখর-জাফলংকে আধুনিক ও নিরাপদ পর্যটন নগরী গড়ে তোলার আশ্বাস মন্ত্রীর

Daily Jugabheri
প্রকাশিত ৩০ মে, শনিবার, ২০২৬
ঈদের তৃতীয় দিনে পর্যটকে মুখর-জাফলংকে আধুনিক ও নিরাপদ পর্যটন নগরী গড়ে তোলার আশ্বাস মন্ত্রীর

মনসুর আলম গোয়াইনঘাট ::: ঈদুল আজহার তৃতীয় দিনে সিলেটের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র জাফলং, বিছানাকান্দি ও রাতারগুলে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে পাহাড়, ঝর্ণা, নদী ও জলাবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নতুন রূপ ধারণ করায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা ছুটে এসেছেন এসব পর্যটন কেন্দ্রে।
শনিবার (৩০ মে) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে হাজারো পর্যটক জাফলং, বিছানাকান্দি ও রাতারগুলে ভ্রমণ করেন। ঈদের প্রথম দুই দিনের তুলনায় তৃতীয় দিনে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পর্যটকদের আগমনে এলাকার হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, নৌকা মাঝি, ফটোগ্রাফার, ট্যুরিস্ট গাইড ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।
এদিকে পর্যটকদের ভিড়ের মধ্যেই শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী, স্থানীয় সংসদ সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী জাফলং পর্যটন এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি পর্যটকদের সঙ্গে কথা বলে পর্যটন খাতের সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়ন বিষয়ে মতামত নেন এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী বলেন, “জাফলংয়ে আগত পর্যটকদের বিভিন্ন মতামত ও পরামর্শ আমরা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। পর্যটকদের ছোটখাটো সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
তিনি জানান, জাফলং সীমান্তবর্তী জিরো পয়েন্ট এলাকায় দীর্ঘদিনের মোবাইল নেটওয়ার্ক সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি পর্যটন এলাকায় নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা আরও জোরদার করা হবে।
স্থানীয় শ্রমজীবী ও পাথরশ্রমিকদের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সরকার তাদের দক্ষতা উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, “জাফলংকে একটি সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনার আওতায় আনা হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, নদী খননের মাধ্যমে নিরাপদ নৌভ্রমণের সুযোগ সৃষ্টি এবং প্রয়োজনীয় সেবার মান বৃদ্ধি করা হবে। পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে জাফলংকে একটি আধুনিক, নিরাপদ ও আকর্ষণীয় পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হবে।”
পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ ছিল জাফলংয়ের মায়াবী ঝর্ণা, পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ পানি, বিছানাকান্দির পাথর ও পাহাড়ি ঝর্ণা এবং রাতারগুলের অপরূপ জলাবন। এসব স্থানে ভিড় করে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করেন দর্শনার্থীরা।
খুলনা থেকে আসা পর্যটক রফিকুল ইসলাম বলেন, “ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছি। জাফলং ও বিছানাকান্দির সৌন্দর্য সত্যিই মুগ্ধ করার মতো। তবে পর্যটন ব্যবস্থাপনায় আরও উন্নয়ন প্রয়োজন।”
তবে অতিরিক্ত পর্যটক সমাগমের কারণে কিছু এলাকায় যানজট, পরিচ্ছন্নতা সংকট, লাইফ জ্যাকেট ব্যবহারে অনিয়ম এবং আবাসন সংকটের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সেবার মান নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশ, থানা পুলিশ, আনসার সদস্য ও রোভার স্কাউট সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
ট্যুরিস্ট পুলিশ জাফলং জোনের ইনচার্জ তপন তালুকদার বলেন, “পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সংশ্লিষ্টদের মতে, ঈদকে কেন্দ্র করে এই বিপুল পর্যটক সমাগম স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং পর্যটননির্ভর হাজারো মানুষের জীবিকায় নতুন গতি ফিরিয়ে এনেছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে স্যোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
৩০ মে ২০২৬

ঈদের তৃতীয় দিনে পর্যটকে মুখর-জাফলংকে আধুনিক ও নিরাপদ পর্যটন নগরী গড়ে তোলার আশ্বাস মন্ত্রীর

ভিজিট করুন- www.jugabheri.com ( বিস্তারিত কমেন্টে )