এশিয়ার প্রাচীনতম বাংলা সংবাদপত্র প্রথম প্রকাশ ১৯৩০

প্রিন্ট রেজি নং- চ ৩২

১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৯শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

……………………………

হজ: আত্মশুদ্ধি ও ভ্রাতৃত্বের সর্ববৃহৎ সমাবেশ

Daily Jugabheri
প্রকাশিত time ago 1 hour
হজ: আত্মশুদ্ধি ও ভ্রাতৃত্বের সর্ববৃহৎ সমাবেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::: ​পবিত্র হজ ইসলামের পাঁচটি মৌলিক স্তম্ভের একটি। এটি সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর জীবনে অন্তত একবার ফরজ ইবাদত। প্রতি বছর বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে কোটি মুসলমান ইসলামের পবিত্র ভূমি মক্কা নগরীতে সমবেত হন। তাঁরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, গুনাহ মোচন এবং আত্মশুদ্ধির উদ্দেশ্যে এই মহান ইবাদত পালন করেন। ২০২৬ সালেও এর ব্যতিক্রম নয়—বাংলাদেশ থেকে নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী প্রায় ৭৮,৫০০ জন হজযাত্রী এই পবিত্র সফরে অংশগ্রহণ করবেন। এই বিশাল আয়োজন শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়; বরং এটি মানবতার ঐক্য, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, ধৈর্য এবং আত্মনিবেদনের এক বিশ্বজনীন মহাসমাবেশ।

​হজযাত্রীর সংখ্যা ও জাতীয় ব্যবস্থাপনা: ​ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ থেকে হজে যাবেন মোট ৭৮,৫০০ জন। এর মধ্যে—

​সরকারি ব্যবস্থাপনায়: ৪,৫৬৫ জন

​বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়: ৭২,৩৪৪ জন

​এছাড়া হজযাত্রীদের সহায়তা, গাইড, চিকিৎসা, প্রশাসনিক তদারকি ও সেবা প্রদানের জন্য প্রায় ১,৩০০ জন সহায়ক কর্মী সৌদি আরবে প্রেরণ করা হবে। ফলে মোট সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৭৯,২৮৫ জন। এই পুরো ব্যবস্থাপনা একটি বড় মানবিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব। প্রতিটি হজযাত্রীর নিরাপদ যাত্রা, ইবাদত পালন এবং মানসিক স্বস্তি নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য।

​হজ ফ্লাইট ও সময়সূচি: ​২০২৬ সালের হজ কার্যক্রম শুরু হবে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে। ​ফ্লাইট শুরু: ১৮ এপ্রিল ২০২৬। ​সৌদি আরবে আগমন: ১৮ এপ্রিল–২১ মে ২০২৬। ​মূল হজের সম্ভাব্য তারিখ: ২৬ মে ২০২৬।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে জিলহজ মাসের ৮–১৩ তারিখ (সম্ভাব্য ২৫–৩০ মে) হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।

​হজের ধর্মীয় গুরুত্ব: কোরআনের আলোকে

​আল্লাহ তাআলা বলেন— “মানুষের ওপর আল্লাহর জন্য এ ঘরের হজ করা ফরজ, যে সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য রাখে।” (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ৯৭)। আরও বলা হয়েছে— “তুমি মানুষের মধ্যে হজের ঘোষণা দাও, তারা দূর-দূরান্ত থেকে তোমার কাছে আসবে।” (সুরা আল-হজ, আয়াত: ২৭)। এই আয়াতগুলো প্রমাণ করে যে, হজ একটি বিশ্বজনীন ইবাদত, যেখানে জাতি-ভাষা-দেশের কোনো সীমাবদ্ধতা নেই।

​হাদিসে হজের মর্যাদা

​হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, নবী করিম (সা.) বলেছেন— “যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজ করে এবং পাপ থেকে বিরত থাকে, সে নবজাত শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে ফিরে আসে।” (সহিহ বুখারি: ১৫২১)। আরও এসেছে— “মকবুল হজের প্রতিদান জান্নাত।” (সহিহ মুসলিম: ১৩৪৯)।

​হজের প্রধান রুকনসমূহ

​১. ইহরাম: হজের নিয়ত করে বিশেষ পোশাক পরিধান। এটি মানবসমতার প্রতীক।

২. তাওয়াফ: কাবা শরিফকে কেন্দ্র করে সাতবার প্রদক্ষিণ।

৩. সাঈ: সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝে চলাচল।

৪. আরাফাতে অবস্থান: নবী (সা.) বলেছেন— “হজ হলো আরাফাত।” (সুনানে তিরমিজি: ৮৮৯)।

৫. মিনা ও শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ: মানুষের ভেতরের কুপ্রবৃত্তির বিরুদ্ধে প্রতীকী সংগ্রাম।

​হজের বিশেষ তাৎপর্য ও শিক্ষা

​বিশ্বের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় সমাবেশ: প্রতি বছর বিশ্বের প্রায় ২০–৩০ লক্ষ মানুষ একই সময়ে মক্কায় সমবেত হন।

​মানবসমতার বাস্তব শিক্ষা: ইহরামের সাদা কাপড় ধনী-গরিব ও নেতা-সাধারণের পার্থক্য ঘুচিয়ে দেয়।

​ভাষা ও সংস্কৃতির মিলনমেলা: শত শত দেশের মানুষ একই ইবাদতে যুক্ত হয়ে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করেন।

​আরাফাতের গুরুত্ব: ধারণা করা হয়, এই দিনে আল্লাহ সবচেয়ে বেশি বান্দাকে ক্ষমা করেন।

​হাজেরা (আ.)-এর স্মৃতি: বিবি হাজেরা (আ.)-এর ত্যাগের স্মৃতি ‘সাঈ’-এর মাধ্যমে আজও জীবন্ত রয়েছে।

​শারীরিক ও মানসিক প্রশিক্ষণ: হজ মানুষকে ধৈর্য, শৃঙ্খলা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ শেখায়।

​হজে যাওয়ার আগে করণীয়

​১. শারীরিক প্রস্তুতি গ্রহণ।

২. হজের সঠিক নিয়ম-কানুন শেখা।

৩. মানসিকভাবে ধৈর্যশীল হওয়া।

৪. প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী সাথে রাখা।

৫. আত্মশুদ্ধি ও তওবা করা।

​পরিশেষে: হজ ২০২৬ শুধু একটি ধর্মীয় সফর নয়; এটি মানবজীবনের সবচেয়ে বড় আত্মিক পরিবর্তনের সুযোগ। বাংলাদেশ থেকে হাজারো মানুষ এই পবিত্র সফরে অংশ নেবেন, যাঁরা আল্লাহর ঘরের মেহমান হয়ে এক অনন্য অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন। আল্লাহ তাআলা সবাইকে হজ পালনের তাওফিক দান করুন এবং যাঁরা ২০২৬ সালে হজে যাচ্ছেন, তাঁদের হজ কবুল করুন। আমিন।

সংবাদটি ভালো লাগলে স্যোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন