এশিয়ার প্রাচীনতম বাংলা সংবাদপত্র প্রথম প্রকাশ ১৯৩০

প্রিন্ট রেজি নং- চ ৩২

১২ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৯শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
২৪শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

……………………………

৩৫তম নিউ ইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলার সাংবাদিক সম্মেলন

Daily Jugabheri
প্রকাশিত ১৫ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার, ২০২৬
৩৫তম নিউ ইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলার সাংবাদিক সম্মেলন

মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের আয়োজনে নিউ ইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা গত ৩৪ বছর ধরে নিয়মিতভাবে নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এর যাত্রা শুরু হয় ১৯৯২ সালে বিশ্বজিত সাহার একক উদ্যোগে। সে বছর জাতিসংঘের সদর দপ্তরের সামনে অস্থায়ী শহীদ মিনার স্থাপন করে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং দুই দিনব্যাপী বইমেলার আয়োজনের মাধ্যমে মুক্তধারা ও বাঙালির চেতনা মঞ্চ এই ঐতিহাসিক উদ্যোগের সূচনা করে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একুশে ফেব্রুয়ারিকে তুলে ধরা এবং একই সঙ্গে বাংলা বইমেলার সূচনা সে সময়ে ছিল প্রায় অকল্পনীয়। প্রথম দিন ব্রুকলিনের একটি বিদ্যালয়ে এবং দ্বিতীয় দিন কুইন্সের একটি চার্চে টেবিলভিত্তিক বই প্রদর্শনী ও বিক্রির পাশাপাশি কবিতা পাঠ ও আলোচনা সভার আয়োজনের মধ্য দিয়ে বহির্বিশ্বে এক অভাবনীয় সাংস্কৃতিক ঘটনার সূচনা ঘটে।
পরবর্তী বছর ঢাকার ইউপিএল প্রকাশনা সংস্থার প্রখ্যাত প্রকাশক মহিউদ্দিন আহমেদ বিপুল সংখ্যক বই নিয়ে নিউ ইয়র্ক বইমেলায় যোগ দেন। ধীরে ধীরে বাংলাদেশের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন স্থান থেকে প্রকাশক ও লেখকদের অংশগ্রহণ বাড়তে থাকে। উদ্বোধনের ক্ষেত্রেও এই বইমেলা একটি স্বতন্ত্র ও ব্যতিক্রমধর্মী ধারা প্রবর্তন করেছে। প্রতি বছরই বাংলা ভাষার একজন বিশিষ্ট লেখক এই বইমেলার উদ্বোধন করে আসছেন। উদ্বোধনকারী লেখকদের তালিকায় রয়েছে—
২০২৫: সাদাত হোসাইন, ২০২৪: শাহাদুজ্জামান, ২০২৩: মুহম্মদ নুরুল হুদা, ২০২২: অমর মিত্র, ২০২১: আসাদ চৌধুরী, ২০২০: অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম (ভার্চুয়াল), ২০১৯: ফরিদুর রেজা সাগর, ২০১৮: রামেন্দু মজুমদার, ২০১৭: পবিত্র সরকার, ২০১৬: সেলিনা হোসেন, ২০১৫: আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, ২০১৪: মহাদেব সাহা, ২০১৩: নির্মলেন্দু গুণ, ২০১২: শামসুজ্জামান খান, ২০১১: তপন রায়চৌধুরী, ২০১০: সৈয়দ শামসুল হক, ২০০৯: হাসান আজিজুল হক, ২০০৮: রফিক আজাদ, ২০০৭: গোলাম মুরশিদ, ২০০৭: সমরেশ মজুমদার (নিউজার্সি), ২০০৭: আনিসুজ্জামান (লস এঞ্জেলেস), ২০০৭: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় (ডালাস), ২০০৬: আনিসুল হক, ২০০৫: আবদুন নূর, ২০০৪: শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, ২০০৪: রাবেয়া খাতুন (লস এঞ্জেলেস), ২০০৪: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় (নিউজার্সি), ২০০৪: সমরেন্দ্র সেনগুপ্ত (ডালাস), ২০০৩: জয় গোস্বামী, ২০০২: হুমায়ুন আজাদ, ২০০১: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, হুমায়ূন আহমেদ, সমরেশ মজুমদার ও ইমদাদুল হক মিলন একত্রে, ২০০০: আবদুল মতিন, ১৯৯৯: দিলারা হাশেম, ১৯৯৮: হুমায়ূন আহমেদ, ১৯৯৭: সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ, ১৯৯৬: পূরবী বসু, ১৯৯৫: আবদুল গাফফার চৌধুরী, ১৯৯৪: মুহম্মদ জাফর ইকবাল, ১৯৯৩: শহীদ কাদরী, ১৯৯২: জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত।
বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের খ্যাতনামা প্রকাশকবৃন্দের অংশগ্রহণে নিউ ইয়র্ক বাংলা বইমেলা ক্রমশ সমৃদ্ধ হয়েছে। বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লেখক, কবি, শিল্পী ও পাঠকদের অংশগ্রহণে এই বইমেলা আজ বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চর্চাকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
মুক্তধারা ফাউন্ডেশন আয়োজিত এই বইমেলার বর্তমান অবস্থান, আয়োজন ও ব্যাপ্তি বাংলা একাডেমি আয়োজিত একুশে বইমেলার পরপরই উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করে আছে। সম্পূর্ণভাবে সাহিত্যপ্রেমীদের উদ্যোগ ও অর্থানুকূল্যে আয়োজিত এই বইমেলা বাংলা সংস্কৃতির ধারাবাহিক চর্চায় এক অনন্য উদাহরণ। মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের পথ অনুসরণ করে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরসহ বিশ্বের বহু দেশে ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে বাংলা বইমেলার আয়োজন শুরু হয়েছে, যেখানে নতুন প্রজন্ম সক্রিয়ভাবে যুক্ত হচ্ছে।
তবে একই সঙ্গে লক্ষ্য করা যায়, বাঙালির ঐতিহ্যবাহী বইপ্রীতি নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। পাড়ায় পাড়ায় পাঠাগারের সংস্কৃতি বিলুপ্তপ্রায়, সামাজিক অনুষ্ঠানে বই উপহার দেওয়ার চর্চা কমে এসেছে, এবং প্রযুক্তিনির্ভর অপসংস্কৃতি আমাদের মননকে প্রভাবিত করছে। এসব প্রবণতা প্রতিহত করার প্রয়াস এখনো দুর্বল।
চলতি বছরের নিউ ইয়র্ক বাংলা বইমেলা নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের জ্যামাইকা পারফর্মিং আর্টস সেন্টারে আগামী ২২ থেকে ২৫ মে অনুষ্ঠিত হবে। এই মিলনমেলায় সব ভাষার সাহিত্য ও সংস্কৃতিপ্রেমী পাঠক, প্রকাশক ও লেখকবৃন্দ আমন্ত্রিত থাকবেন। বইমেলা জুড়ে থাকবে নতুন বই, লেখক-পাঠক-প্রকাশকের অংশগ্রহণে আলোচনা সভা, সেমিনার ও কথোপকথন, যার মাধ্যমে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির আধুনিক চর্চা ও উপলব্ধির প্রতি এক নিষ্ঠ অঙ্গীকার প্রতিফলিত হবে।
এ বছরও বিগত বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় প্রদান করা হবে ‘মুক্তধারা–জিএফবি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৬’, যার আর্থিক মূল্যমান ৩,০০০ মার্কিন ডলার। গত বছর এই পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন প্রখ্যাত ভাষাবিদ, গবেষক ও লেখক পবিত্র সরকার। এছাড়া অভিবাসী নতুন লেখকদের প্রকাশিত গ্রন্থ থেকে শ্রেষ্ঠ বইকে প্রদান করা হবে ‘শহীদ কাদরী গ্রন্থ পুরস্কার ২০২৬’ এবং অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা সংস্থাগুলোর মধ্য থেকে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হবে ‘চিত্তরঞ্জন সাহা শ্রেষ্ঠ প্রকাশনা পুরস্কার ২০২৬’।
আগামী ১৪ জানুয়ারি, বুধবার সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে নিউ ইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলার সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। মুক্তধারা ফাউন্ডেশন আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আপনার সংবাদমাধ্যম থেকে একজন সাংবাদিক ও একজন আলোকচিত্রী পাঠানোর জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।
আপনিও সাদরে আমন্ত্রিত।

ড. নজরুল ইসলাম
আহ্বায়ক, ৩৫তম নিউ ইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা

সংবাদটি ভালো লাগলে স্যোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন