এশিয়ার প্রাচীনতম বাংলা সংবাদপত্র প্রথম প্রকাশ ১৯৩০

প্রিন্ট রেজি নং- চ ৩২

২১শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

……………………………

সিলেটে উৎপাদন খরচের চাপে চা-শিল্প-হিমশিম খাচ্ছে বাগান কর্তৃপক্ষ

Daily Jugabheri
প্রকাশিত time ago 8 hours
সিলেটে উৎপাদন খরচের চাপে চা-শিল্প-হিমশিম খাচ্ছে বাগান কর্তৃপক্ষ

যুগভেরী ডেস্ক ::: প্রায় ১৭০ বছর ধরে চা উৎপাদিত হচ্ছে বাংলাদেশে। সময় যত যাচ্ছে, চা চাষাবাদে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগায় এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উৎপাদন বাড়ছে। তবে চা উৎপাদন বাড়লেও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় চাপে আছে শিল্পটি; বিশেষ করে তেল, সার, কীটনাশক, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় অনেক বাগান চা বিক্রি করে উৎপাদন খরচ তুলতে হিমশিম খাচ্ছে। এদিকে শ্রমিকেরা বলছেন, তাঁরাও ন্যায্য মজুরি পাচ্ছেন না।

সিলেটের মালনীছড়া চা-বাগানে ১৮৫৪ সালে পরীক্ষামূলকভাবে বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু করে। একে একে গড়ে ওঠে ১৬৮টি চা-বাগান। ২০২২ সালে শ্রমিক আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে চা-শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১২০ থেকে বাড়িয়ে ১৭০ টাকা করা হয়। এরপর তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে পরিবহন খাতে খরচ বেড়ে যাওয়া, সার ও কীটনাশক ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধিতে চা উৎপাদনের খরচ অনেকটা বেড়ে যায়। আর এতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে বিভিন্ন বাগানের কর্তৃপক্ষের। চাতলাপুর চা-বাগানের ব্যবস্থাপক শুভঙ্কর চন্দ্র নাথ বলেন, চা উৎপাদন বেড়েছে ঠিক, তবে চা-বাগানগুলোর অবস্থা তেমন ভালো যাচ্ছে না। কারণ, চা-শিল্পে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে।

 

এদিকে চা-শ্রমিকেরা বলছেন, বর্তমানে দৈনিক মজুরি ১৭৮ টাকা ৫০ পয়সা পাচ্ছেন। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিবছর ৫ শতাংশ হিসাবে মজুরি বাড়ানোর কথা। তবে মালিকপক্ষ মজুরি বাড়াচ্ছে না।

তবে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরি বলেন, উৎপাদন ভালো হচ্ছে। তবে শ্রমিকের মজুরি বাড়ছে না। প্রতিবছর শ্রমিকের মজুরি ৫ শতাংশ বাড়ানোর কথা থাকলেও তা হচ্ছে না।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ সালে প্রতি কেজি চা নিলামের গড় মূল্য ছিল ১৭১ টাকা ২৪ পয়সা, ২০২৪-২৫ সালে ছিল ২০২ টাকা ৪৬ পয়সা এবং ২০২৫-২৬ সালে ২৪৫ টাকা ৫০ পয়সা গড় মূল্যে বিক্রি হচ্ছে; যা বিগত ১০ বছরের তুলনায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দামে এ বছর বিক্রি হচ্ছে চা। মালিকপক্ষের দাবি, দাম বাড়লেও খরচের কারণে তাঁরা হিমশিম খাচ্ছেন।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, চা-শিল্পকে বিভিন্ন পোকামাকড় ও রোগবালাই থেকে রক্ষা করা, জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবহনের অতিরিক্ত ভাড়া, যেখানে পানি নেই, সেখানে পানি সংগ্রহ করা—সবই আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ।সূত্র-সিলেটভিউ

সংবাদটি ভালো লাগলে স্যোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সিলেটে উৎপাদন খরচের চাপে চা-শিল্প-হিমশিম খাচ্ছে বাগান কর্তৃপক্ষ

২০ জুন ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »