এশিয়ার প্রাচীনতম বাংলা সংবাদপত্র প্রথম প্রকাশ ১৯৩০

প্রিন্ট রেজি নং- চ ৩২

২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৩রা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

……………………………

২৩ মার্কিন ঘাঁটিতে ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলা

Daily Jugabheri
প্রকাশিত ০৩ এপ্রিল, শুক্রবার, ২০২৬
২৩ মার্কিন ঘাঁটিতে ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::: ইরাক এবং পার্শ্ববর্তী দেশের বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরাকের একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠী। সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘সারায়া আউলিয়া আল-দাম’ জানিয়েছে, তারা গত এক দিনে মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে অন্তত পাঁচটি সফল হামলা পরিচালনা করেছে। খবর রয়টার্সের।

একই সঙ্গে ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ নামক অপর একটি জোট দাবি করেছে, তাদের যোদ্ধারা ইরাকের অভ্যন্তরে এবং এই অঞ্চলের অন্যান্য স্থানে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ২৩টি সামরিক অভিযান চালিয়েছে। এই হামলাগুলোতে কয়েক ডজন ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বলে গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতিকে লক্ষ্যবস্তু করার এই প্রবণতা নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মার্কিন বাহিনীর ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই তারা এই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র অভিযান পরিচালনা করছে।

‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে তারা উন্নত প্রযুক্তির ড্রোন মোতায়েন করেছে। যা মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম। এই হামলার ফলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

 

বিশ্লেষকদের মতে, ইরাকি গোষ্ঠীগুলোর এই সমন্বিত হামলা মূলত মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সামরিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে একটি কঠোর বার্তা। ইরান এবং ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান সংঘাতের রেশ ধরে ইরাকের এই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এখন মার্কিন স্বার্থে আঘাত হানাকে তাদের প্রধান কৌশলে পরিণত করেছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরাকি সরকারের ওপরও চাপ বাড়ছে, কারণ বিদেশি বাহিনীর ওপর এই ধরনের হামলা দেশটির অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। তবে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো স্পষ্ট করে দিয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত এই অঞ্চল থেকে মার্কিন আধিপত্য ও সামরিক হস্তক্ষেপ বন্ধ না হবে, ততক্ষণ তাদের হামলা অব্যাহত থাকবে।

গত ২৪ ঘণ্টার এই ধারাবাহিক অভিযানগুলো মার্কিন বাহিনীর জন্য সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই হামলার পর মার্কিন প্রশাসন পাল্টা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করে কি না, সেদিকেই এখন তীক্ষ্ণ নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।

সংবাদটি ভালো লাগলে স্যোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন