এশিয়ার প্রাচীনতম বাংলা সংবাদপত্র প্রথম প্রকাশ ১৯৩০

প্রিন্ট রেজি নং- চ ৩২

২৭শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১০ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

……………………………

ভারতে ভারী বৃষ্টি, সিলেটে বন্যার শঙ্কা

Daily Jugabheri
প্রকাশিত time ago 11 hours
ভারতে ভারী বৃষ্টি, সিলেটে বন্যার শঙ্কা

যুগভেরী ডেস্ক ::: কদিন ধরেই টানা বৃষ্টি হচ্ছে সিলেটে। বৃষ্টি আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ভারী বৃষ্টি হচ্ছে সিলেটের উজনের ভারতের মেঘালয় রাজ্যেও। ফলে ঢল নেমে বাড়ছে সিলেটের নদ-নদীর পানি। এ অবস্থায় সিলেটে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে বন্যা হলেও এটি দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

মেঘালয়ের দৈনিক আবহাওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যটির বিভিন্ন স্থানে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে সোহরা (চেরাপুঞ্জি) এলাকায় ৭২ দশমিক ২ মিলিমিটার। শিলংয়ে ২১ দশমিক ৬ মিলিমিটার এবং বারাপানিতে ১৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

ভৌগলিকভাবে মেঘালয়ের সোহরা ও খাসি পাহাড়ি অঞ্চলের টানা বৃষ্টি সিলেটের নদ-নদী ব্যবস্থার জন্য সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ উজান থেকে নেমে আসা পানি সুরমা, কুশিয়ারা ও অন্যান্য পাহাড়ি নদীর প্রবাহ দ্রুত বাড়িয়ে দেয়, যা স্বল্প সময়ে আকস্মিক বন্যার পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

সেখানের আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৬ ও ২৭ মে মেঘালয়ের অধিকাংশ এলাকায় মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়াসহ বজ্রপাত এবং ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ২৮ ও ২৯ মে পর্যন্তও বিভিন্ন এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

অন্যদিকে গেল ২৪ ঘণ্টায় সিলেট জেলায় সর্বোচ্চ ১১১ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। তাছাড়া জেলা ভিত্তিক পাউবোর দেয়া তথ্যানুযায়ী, হবিগঞ্জে ৮২ মিলিমিটার, সুনামগঞ্জে ৬৫ মিলিমিটার এবং মৌলভীবাজারে ৪৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।

এদিকে সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুর ৩টার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী সিলেট জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি ক্রমাগত বেড়েই চলতেছে। সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে পানি ১১ দশমিক শূন্য মিটার রেকর্ড করা হয়েছে, যেখানে বিপৎসীমা ১২ দশমিক ৭৫ মিটার। একই নদীর সিলেট পয়েন্টে পানি ৮ দশমিক ৪৭ মিটার, বিপৎসীমা ১০ দশমিক ৮০ মিটার। কুশিয়ারা নদীর অমলশীদ পয়েন্টে পানি ১২ দশমিক ৬৪ মিটার, বিপৎসীমা ১৫ দশমিক ৮০ মিটার। শেওলা পয়েন্টে পানি ১০ দশমিক ৪৩ মিটার, বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ০৫ মিটার। ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি ৮ দশমিক ৬১ মিটার, বিপৎসীমা ১০ দশমিক ৮৫ মিটার। শেরপুর পয়েন্টে পানি ৭ দশমিক ৪৮ মিটার, বিপৎসীমা ৮ দশমিক ৫৫ মিটার। সারিগোয়াইন নদীর সারিঘাট পয়েন্টে পানি ৮ দশমিক ৯০ মিটার, বিপৎসীমা ১২ দশমিক ৩৫ মিটার। পিয়াইন নদীর জাফলং পয়েন্টে পানি ৮ দশমিক ১০ মিটার, বিপৎসীমা ১৩ দশমিক শূন্য মিটার। গোয়াইনঘাট পয়েন্টে পানি ৭ দশমিক ৮৬ মিটার, বিপৎসীমা ১০ দশমিক ৮২ মিটার। লোভাছড়া নদীর লোভাছড়া পয়েন্টে পানি ১১ দশমিক ৪২ মিটার এবং ধলা নদীর ইসলামপুর পয়েন্টে পানি ৭ দশমিক ২৯ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। তবে এখনো কোনো নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ও আবহাওয়া কর্মকর্তারা বলছেন, উজানের মেঘালয় থেকে নেমে আসা ঢল এবং সিলেটের অভ্যন্তরীণ ভারি বৃষ্টি একসঙ্গে মিলিত হলে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। এতে সিলেটের সীমান্তবর্তী নিচু এলাকা, হাওরাঞ্চল এবং নদীতীরবর্তী গ্রামগুলোতে জলাবদ্ধতা ও আকস্মিক বন্যা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল মুঈদ বলেন, সিলেটে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকবে এবং উজানের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পানির কারণে নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ২৬ মে থেকে ৩০ মে পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টির পাশাপাশি কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে বজ্রপাত ও দমকা হাওয়ার ঘটনাও ঘটতে পারে।

এছাড়া সিলেট পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ দাস বলেন, ভারতের উজানের ভারি বৃষ্টিপাতের জন্য পাহাড়ি ঢল সিলেট অঞ্চলের নদীগুলোতে এসে পড়ছে, তাছাড়া সিলেটেও টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এতে করে যদি ‍উজানে ঢল আর বৃষ্টিপাত চলমান থাকে তাহলে সিলেটে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা রয়েছে।

তিনি জানান, আকস্মিক বন্যা হলেও এটি হবে স্বল্পমেয়াদি, পানি নেমে যাবে খুব দ্রুতই।

সংবাদটি ভালো লাগলে স্যোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন