
নিজস্ব সংবাদদাতা, গোয়াইনঘাট ::: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ৫ নম্বর পূর্ব আলীরগাঁও ইউনিয়নের লাফনাউট গ্রামের পূর্ব দীঘিরপাড়ে আপন ভাইয়ের দা’র আঘাতে কলিম উল্লাহ (৫৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।
স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার বিকেল ৫টার দিকে কলিম উল্লাহর ১৮ বছর বয়সী মেয়ে রুনা বেগমকে নিজ ঘরে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে তার আপন চাচাতো ভাই জুবের আহমদের (১৮) বিরুদ্ধে। রুনার চিৎকার শুনে পাশের ঘর থেকে রাজিয়া বেগম এগিয়ে এসে বিষয়টি দেখতে পান। পরে স্থানীয়রা জুবের আহমদকে আটক করেন।
ঘটনাটি জানাজানি হলে দুই পরিবারের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। স্থানীয়দের উদ্যোগে বিষয়টি সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তির জন্য আগামী বুধবার রাতে বৈঠকের দিন নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে অভিযোগের বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে জুবেরের বাবা সয়ফুল্লাহ (৬০) জৈন্তাপুর উপজেলার দরবস্ত এলাকায় ছেলের বিয়ে ঠিক করেন। গত শুক্রবার রাতেই জুবেরের বিয়ে সম্পন্ন হয় বলে স্থানীয়রা জানান।
এদিকে সালিশে বিচার না পেয়ে গত শনিবার দুপুরে গোয়াইনঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দেন কলিম উল্লাহ। অভিযোগের পর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক মোড়ল এসআই নাঈমুলকে তদন্তের দায়িত্ব দেন।
পরে এসআই নাঈমুল ও এএসআই অনুপ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে তদন্তে যান। এ সময় কলিম উল্লাহর সঙ্গে তার ভাই সয়ফুল্লাহর কথা-কাটাকাটি হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। একপর্যায়ে সয়ফুল্লাহ দেশীয় অস্ত্র দা দিয়ে পুলিশের সামনেই কলিম উল্লাহর ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ ওঠে। দা’র আঘাতে কলিম উল্লাহর গলার বাম পাশে গুরুতর জখম হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর পুলিশ সয়ফুল্লাহর ছেলে আমির উদ্দিনকে (২৭) আটক করেছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের আটকে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গোয়াইনঘাট থানার ওসি মো. ওমর ফারুক মোড়ল বলেন, কলিম উল্লাহ নিহতের ঘটনায় আমির উদ্দিনকে আটক করা হয়েছে। তবে পুলিশের সামনে হামলা চালানোর বিষয়টি সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটকে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সংবাদটি ভালো লাগলে স্যোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন