এশিয়ার প্রাচীনতম বাংলা সংবাদপত্র প্রথম প্রকাশ ১৯৩০

প্রিন্ট রেজি নং- চ ৩২



……………………………

পোলিওমুক্ত বিশ্ব গড়ার প্রত্যয়ে রোটারি ক্লাবের সচেতনতামূলক র‌্যালি

Daily Jugabheri
প্রকাশিত time ago 1 hour
পোলিওমুক্ত বিশ্ব গড়ার প্রত্যয়ে রোটারি ক্লাবের সচেতনতামূলক র‌্যালি

বিশ্ব পোলিও দিবস উপলক্ষে সিলেটে সচেতনতামূলক র‌্যালি করেছে রোটারি ক্লাব ডি-৬৫ সিলেট জোন।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে নগরের শারদা হল প্রাঙ্গণ থেকে র‌্যালিটি বের করা হয়। পোলিওমুক্ত বিশ্ব গড়ার প্রত্যয় এবং পোলিও প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
র‌্যালিটি চৌহাট্টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় অংশগ্রহণকারীদের হাতে End Polio Now’ ও ‘One World, One Goal লেখা প্ল্যাকার্ড ছিল।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (যুগ্ম সচিব) মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রোটারি পিডিজি শহীদ আহমেদ চৌধুরী।

বক্তব্য রাখেন রিপসা ২০২৬-২০২৭ স্পেশাল অ্যাডভাইজার রোটারিয়ান অ্যাডভোকেট সিদ্দিকুর রহমান, সিনিয়র কো-অর্ডিনেটর (ফাইন্যান্স) রোটারিয়ান মো. কবির উদ্দিন, অ্যাসিস্ট্যান্ট কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর রোটারিয়ান জাকির আহমেদ, কো-অর্ডিনেটর (এডমিন) অ্যাডভোকেট সালেহ আহমেদ চৌধুরী, পাস্ট প্রেসিডেন্ট আলী আশরাফ খালেদ।
প্রোগ্রাম চেয়ারপারসন রোটারিয়ান মো. আবুল কালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রোগ্রাম সেক্রেটারি রোটারিয়ান পিপি অ্যাডভোকেট এমএ হাফিজ পিএইচএফ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন অ্যাসিস্ট্যান্ট কো-অর্ডিনেটর সেলীনা আক্তার চৌধুরী, রেজিস্ট্রেশন চেয়ার রোটারিয়ান এএসএমজি কিবরিয়া এবং ফুড চেয়ার ফারুক আহমেদ। এ ছাড়া সিলেট জোনের প্রায় সব ক্লাবের প্রেসিডেন্ট, অফিসিয়ালস ও রোটারিয়ানরা ছাড়াও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

রোটারি ইন্টারন্যাশনাল ডি-৬৫ সিলেট জোনের প্রোগ্রাম চেয়ারপারসন মো. আবুল কালাম বলেন, বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী পোলিও নির্মূলে রোটারির অবদান অনন্য। এই কার্যক্রমের সম্পূর্ণ বাজেট রোটারি থেকে দেওয়া হয়। র‌্যালির মাধ্যমে আমরা চাই সারা বিশ্ব জানুক—পোলিও নির্মূলে রোটারি এখনো অগ্রণী ভূমিকা রাখছে।

বিশ্বব্যাপী পোলিও নির্মূল রোটারি ইন্টারন্যাশনালের দীর্ঘদিনের অন্যতম প্রধান কার্যক্রম। ১৯৭৯ সালে ফিলিপাইনে শিশুদের পোলিও টিকা দেওয়ার একটি প্রকল্পের মাধ্যমে সংস্থাটি পোলিও নির্মূলের কার্যক্রম শুরু করে।

পরে ১৯৮৮ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ইউনিসেফ ও যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) সঙ্গে রোটারি গ্লোবাল পোলিও ইরাডিকেশন ইনিশিয়েটিভের প্রতিষ্ঠাতা অংশীদার হয়। এই বৈশ্বিক উদ্যোগ শুরুর পর বিশ্বে পোলিওর ঘটনা ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশের বেশি কমেছে।

বাংলাদেশে পোলিও নির্মূলে রোটারি ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশ সরকার, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফসহ বিভিন্ন সংস্থার সাথে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছে। ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ বৈশ্বিক পোলিও নির্মূল কার্যক্রমের অংশ হিসেবে জাতীয় টিকাদান দিবস পালন শুরু করে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৫ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত দেশে ২১টি জাতীয় টিকাদান দিবস অনুষ্ঠিত হয়। এসব কার্যক্রমে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের প্রায় ১০০ কোটি ডোজ মুখে খাওয়ার পোলিও টিকা দেওয়া হয়।

বাংলাদেশে সর্বশেষ পোলিওভাইরাস শনাক্ত হয়েছিল ২০০৬ সালে। এরপর দেশে আর পোলিওভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়নি। ২০১৪ সালে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলকে পোলিওমুক্ত হিসেবে সনদ দেওয়া হয়। তবে বিশ্ব থেকে রোগটি পুরোপুরি নির্মূল না হওয়ায় পোলিওর বিরুদ্ধে টিকাদান ও নজরদারি অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিশ্ব পোলিও দিবস প্রতিবছর ২৪ অক্টোবর পালিত হয়। পোলিও টিকার উদ্ভাবক জোনাস সালকের জন্মদিন স্মরণে রোটারি ইন্টারন্যাশনাল এ দিবস পালনের উদ্যোগ নেয়। দিবসটির অন্যতম উদ্দেশ্য পোলিও নির্মূলে বিশ্বব্যাপী চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি এবং রোগটি পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত টিকাদান কার্যক্রমের প্রতি সমর্থন ধরে রাখা।

এ সময় সর্বোচ্চ রেজিস্ট্রেশন করা ক্লাবগুলোর মধ্যে রোটারি ক্লাব অব সিলেট মেট্রোপলিটন, রোটারি ক্লাব অব সিলেট ক্বীন ব্রিজ, রোটারি ক্লাব অব সিলেট আর্কেডিয়া, রোটারি ক্লাব অব সিলেট সেন্ট্রাল ও রোটারি ক্লাব অব বিয়ানীবাজারকে ক্রেস্ট দিয়ে সম্মানিত করা হয়।  প্রেস বিজ্ঞপ্তি

সংবাদটি ভালো লাগলে স্যোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
25 October 2026

পোলিওমুক্ত বিশ্ব গড়ার প্রত্যয়ে রোটারি ক্লাবের সচেতনতামূলক র‌্যালি

বিস্তারিত কমেন্টে