
যুগভেরী ডেস্ক ::: সিলেটের গোয়াইনঘাটে দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত যুবদল নেতা বদরুল আলমের বাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এ সময় হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং মামলার তদন্ত ও অভিযোগপত্র (চার্জশিট) প্রস্তুতে কোনো ধরনের ফাঁকফোকর না রাখার নির্দেশ দেন তিনি।
গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে নিহত বদরুল আলমের বাড়িতে যান মন্ত্রী। সেখানে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন, তাঁদের সান্ত্বনা দেন এবং যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
এ সময় মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার তদন্ত যেন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও তথ্য-প্রমাণনির্ভর হয়, সে বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত কেউ যেন আইনের আওতা থেকে রেহাই না পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। মামলার তদন্ত থেকে শুরু করে অভিযোগপত্র দাখিল পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে সতর্কতার সঙ্গে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। তদন্তে কোনো ধরনের ফাঁকফোকর রাখা যাবে না, যাতে অপরাধীরা আইনের সুযোগ নিয়ে পার পেয়ে যেতে না পারে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নিতে হবে। তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণ যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করতে হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আলামত ও তথ্য-প্রমাণ সংরক্ষণ করে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, এ ধরনের ঘটনায় কোনো ধরনের অবহেলা গ্রহণযোগ্য নয়। দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে নিহতের পরিবার যাতে ন্যায়বিচার পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী, গোয়াইনঘাট-কোম্পানীগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার নোমান আহমদ, গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক মোড়ল, গোয়াইনঘাট উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন, ১ নম্বর রুস্তমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাবুদ্দিন শিহাব, রুস্তমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইউনুছ আলী, সহসভাপতি আব্দুল গনি ও সাধারণ সম্পাদক ইমাম উদ্দিনসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ।
বদরুল আলমের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত তদন্ত শেষ করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।
প্রসঙ্গত, গত ১০ অক্টোবর দিবাগত রাত ১০ টার দিকে নিহত বদরুল আলম ও তার সহযোগী সাদেক আহমদ ব্যবসায়ীক কাজে মোটরসাইকেল যোগে পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের মনরতল বাজারে গিয়েছিলেন। এরপর ভোররাত আনুমানিক ৪টায় দুর্বৃত্তের হামলায় ঘটনাস্থলেই বদরুল আলম নিহত হন।
এ ঘটনায় গুরুতর আহত সাদেক আহমদ ও নিহত বদরুল আলমের ভাই মাওলানা আখলাকুল আম্বিয়া জানান, রাত সাড়ে ১০ টার দিকে ব্যবসায়ীক কাজে মোটরসাইকেল যোগে পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের মনরতল বাজারে গিয়েছিলেন নিহত বদরুল আলম ও ছাদেক। এ সময় তাদের সাথে নগদ ৩০ লক্ষ টাকা ছিল। ব্যবসায়ীক কাজ শেষে ভোররাতে বাড়ি ফেরার পথে তাদের সাথে নগদ ৩০ লাখ টাকা ও ২৯ টি গরুসহ গুরাগ্রামের দীঘি সংলগ্ন এলাকায় পৌছার পর রুস্তুমপুর ইউনিয়নের গুরাগ্রাম গ্রামের ময়বুর রহমানের ছেলে শাহীন আহমদ ও মামুন মিয়া এবং উপর গ্রামের আব্দুস শহিদ আহমদের ছেলে নোমান আহমদের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রে ১৫/১৬ সদস্যের সংঘবদ্ধ একটি দল বদরুল আলম ও সাদেক আহমেদের উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে নগদ ৩০ লাখ টাকা ও ২৯টি গরু ছিনিয়ে নেয়।
এ সময় ধারালো রামদা ও ছোরার আঘাতে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন বদরুল ও সাদেক। দূর্বৃত্তরা তাদের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে বলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। রবিবার (১১অক্টোবর) ভোরে পথচারীরা বদরুল আলম ও ছাদেকের দূর্ঘটনার খবর তাদের আত্মীয় স্বজনের কাছে পৌঁছে দেন। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ভাবে বদরুল আলম ও ছাদেক আহমদকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজে নিয়ে যায় এবং কর্তব্যরত চিকিৎসক বদরুল আলমকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর দিকে গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন সাদেক আহমেদ।
সংবাদটি ভালো লাগলে স্যোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন