
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এই দেশের মালিক হচ্ছে জনগন। দেশের মানুষ যদি সতর্ক থাকে তাহলে আমাদের আর কোন চিন্তা করতে হবে না। দেশ এগিয়ে যাবে। তাই আজ আমি জনগনের হাতেই এই দেশের নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও ভবিষ্যত সঁপে দিয়ে গেলাম।
বুধবার বিকেলে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিলির বক্তব্যে তিনি এমনটি বলেন। এই অনুষ্ঠান থেকে সারা দেশে একযোগে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচীর তৃতীয় পর্যায়ের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, তিনি বলেন গত এক যুগ মানুষের ভোট ও কথা বলার স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিলো। ২০২৪ সালে মানুষ বুকের তাজা রক্ত দিয়ে সেই অধিকার ফিরিয়ে এনেছে। ৫ তারিখ দেশের মানুষ স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে। এখন মানুষ শান্তি চায়। কাজ চায়। ভালোভাবে বেঁচে থাকতে চায়। দেশের মানুষ এখন স্থিতিশীলতা চায়, শান্তি চায়, কর্মসংস্থান চায়, চিকিৎসা চায়, শিক্ষার সুযোগ চায়।
তিনি বলেন, দেশের ভাগ্য পরিবর্তন করতে হলে সবাইকে পরিশ্রম করতে হবে। সরকারের পাশাপাশি জনগনকেও দায়িত্ব পালন করতে হবে। কারণ জনগনকে নিয়েই বাংলাদেশ। ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত অলস হয়ে পড়ে থাকলে দেশ এগিয়ে নেওয়া যাবে না। দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হলে সকলকে হাতে হাত রেখে কাজ করতে হবে।
দেশে বাক-স্বাধীনতা ফিরে এসেছে জানিয়ে তিনি বলেন, আজকে যে কেউ সরকারের বিরুদ্ধেও নির্দিধায় বলতে পারে। সংবাদপত্র সরকারের বিরুদ্ধেও লিখতে পারে। আজকে গণতন্ত্র, বাক ও ব্যক্তির স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একারণেই আজকে আমরা জনগনের জন্য কাজ করতে পারছি।
সরকারের বিবিণ্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সরকার গঠনের এক সপ্তাহের মধ্যে ১২ লক্ষ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ করেছি। আগামীএক বছরে প্রতিটি উপজেলায় অন্তত ৮ হাজার নারীকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে। একবছরের মধ্যে ৪০ লাখ কৃষকদের মধ্যে কৃষক কার্ড প্রদান করা হবে। উপজেলা হাসপাতালে কিডনি ডায়ালেসিসের মেশিন নিয়ে আসা হবে। সব উপজেলা হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। আজকে আমরা একসাথে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, দুস্থদের ঘর নির্মাণের টাকা প্রদান, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বৃত্তি ও অসুস্থদের চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করেছি।
তারেক রহমান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আমরা একটা দল ছিলাম। কিন্তু আমরা যখন সরকার গঠন করেছি তখন আমরা সব মানুষের সরকার। যারা ভোট দিয়েছে, যারা ভোট দেয়নি সবার সরকার। আমরা সব মানুষের জন্য কাজ রতে চাই। বিএনপি সরকার সব জনগনের কল্যানে কাজ করতে চায়।
বিরোধী দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, অতীতে দেখেছি, যখন দেশ এগিয়ে চলে, অর্থনীতি ও শান্তিশৃঙ্খলা স্থিতিশীল থাকে তখনই দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। অতীতে বিএনপির বিরুদ্ধে একত্রিত হয়ে যারা আন্দোলন আন্দোলন খেলা করেছিলো, তারা আজকে আবার বলছে, এই সরকারকে একদিনও সময় দেওয়া যাবে না।
প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, যারা বলে সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না, তারা কি জনগনের স্বার্থে কথা বলছে না নিজেদের স্বার্থে কথা বলছে? তারা নিজেদের স্বার্থে কথা বলছে।
তিনি বলেন, আমাদের শক্তির উৎস জনগন। আমরা জনগনকে নিয়ে রাজনীতি করি। জনগন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি আগামী ৫ বছর দেশ পরিচালনা করবে। যারা বলে বিএনপিকে সময় দেওয়া যাবে না, তাদের বিরুদ্ধে কী করা উচিত? মনে আছে তো একাত্তরে তারা কী করেছিলো? ৮৬ সালে কী করেছিলো? গত এক যুগ আন্দোলনেও তাদের পাওয়া যায়নি। এই সময়ে যারা শহীদ হয়েছে, জেল খেটেছে তারা সবাই বিএনপির কর্মী।
এঅর্থ পাচারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অতীতে দেশের জনগনের টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এখন থেকে বাংলাদেশের মানুষকে সাথে নিয়ে অর্থ পাচার রোধ করবো। এই দেশের মানুষের অর্থ এই দেশেই থাকবে। কোথাও যাবে না। এই দেরে মানুষের কল্যানে ব্যয় হবে। আমরা জনগনের অর্থ দিয়ে জনগনের জন্য কাজ করতে চাই।
সমাজকল্যান মন্ত্রী ডা. এজেএমএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রবাসীকল্যান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী স্থানীয় সংসদ সদস্য এম. নাসের রহমান প্রমুখ। ভিডিওকনফারেন্সে যুক্ত হওয় বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
সংবাদটি ভালো লাগলে স্যোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন