এশিয়ার প্রাচীনতম বাংলা সংবাদপত্র প্রথম প্রকাশ ১৯৩০

প্রিন্ট রেজি নং- চ ৩২

১৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১লা জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

……………………………

গোয়াইনঘাটে কিশোরী অপহরণচেষ্টায় ঘটনায় বৃদ্ধা হত্যার মূল আসামি গ্রেফতার

Daily Jugabheri
প্রকাশিত time ago 19 hours
গোয়াইনঘাটে কিশোরী অপহরণচেষ্টায় ঘটনায় বৃদ্ধা হত্যার মূল আসামি গ্রেফতার

নিজস্ব সংবাদদাতা, গোয়াইনঘাট ::: মুষলধারে বৃষ্টি আর গভীর রাতের নিস্তব্ধতা। চারদিকে যখন ঘুমে আচ্ছন্ন জনপদ, ঠিক তখনই সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলা উপজেলার বীরমঙ্গল হাওরের মাটিকাঁপা গ্রামে ঘটে যায় এক হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ড। কিশোরীকে অপহরণের চেষ্টা ঠেকাতে গিয়ে প্রাণ হারান দিলারা বেগম (৫৪) নামের এক বৃদ্ধা। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তার নাতনি হাবিবা আক্তার (১৪)।

চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল আসামিকে গ্রেফতার করেছে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ। র‌্যাব-৯ সিলেটের সহায়তায় পরিচালিত অভিযানে গ্রেফতার হওয়া হারুন রশিদ (৩৫) প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৬ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টা ২০ মিনিটে প্রবল বর্ষণের সুযোগ নিয়ে কয়েকজন দুর্বৃত্ত নয়াপাড়া (বীরমঙ্গল হাওর) এলাকার একটি বসতঘরে প্রবেশ করে। এসময় তারা ঘরে থাকা কিশোরী হাবিবা আক্তারকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। হাবিবার চিৎকারে পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়।
একপর্যায়ে হাবিবার দাদি দিলারা বেগম বাধা দিতে গেলে দুর্বৃত্তরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে বুকের ডান পাশে আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। হামলায় আহত হাবিবা আক্তার বর্তমানে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার পর নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে গোয়াইনঘাট থানায় (১৭মে) রবিবার একটি হত্যা মামলা নং-১২ দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-১২ দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারা এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭/৩০ ধারায় এ মামলাটি রুজু করা হয়। মামলার তদন্ত দায়িত্ব পালন করছেন থানার এসআই (নিঃ) কাজী আশরাফুল হক।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গ্রেফতারকৃত হারুন রশিদের সঙ্গে নিহত পরিবারের ছেলে আম্বিয়া আহমদের পূর্ব থেকে আর্থিক লেনদেন ও বিরোধ ছিল। সেই পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা।

ঘটনার পরপরই পুলিশ প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে। পরে র‌্যাব-৯-এর সহযোগিতায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে মূল আসামিকে তার ফুফুর বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।

এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন,
ঘটনার পরপরই পুলিশ গুরুত্বসহকারে তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন,
এ ধরনের নৃশংস ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

এদিকে শান্ত হাওরাঞ্চলে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসী দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে স্যোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন