
যুগভেরী ডেস্ক ::: চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল আগামী ২৫ থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে প্রকাশের প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছেন কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, সাধারণত বৃহস্পতিবার পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়ে থাকে। আগামী ২৯ অক্টোবরও বৃহস্পতিবার হওয়ায় ওই দিন ফল প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পরবর্তী পরীক্ষার জন্য এক বছর অপেক্ষা করতে হবে না। তাদের অনুত্তীর্ণ বিষয়ে আবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দিতে চলতি বছর থেকেই অন্তর্বর্তী পরীক্ষা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়া ও ফল প্রকাশের পুরো প্রক্রিয়া দুই মাসের মধ্যে শেষ করা হবে। আর তিন বা তার বেশি বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তিন মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ এবং খাতা পুনর্নিরীক্ষণের কাজ শেষ হওয়ার পর অন্তর্বর্তী পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হবে। গত ১২ অক্টোবর ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে অনুষ্ঠিত এক সভায় দেশের বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা এ ধরনের পরীক্ষা চালুর বিষয়ে মত দিয়েছেন। তবে দুইয়ের বেশি বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ কতটি বিষয়ে পরীক্ষার সুযোগ পাবেন, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
ফল প্রকাশের পর শুরু হবে পরীক্ষার প্রস্তুতি
আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ফল প্রকাশের পর দুই মাসের মধ্যে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়া ও ফল প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, ফল প্রকাশের পর এক মাস ধরে খাতা পুনর্নিরীক্ষণের কাজ চলবে। পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের পর পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা করা হবে। এরপর পরীক্ষা গ্রহণ ও উত্তরপত্র মূল্যায়ন শেষে ফল প্রকাশ করা হবে।
চেয়ারম্যানের ভাষ্য অনুযায়ী, দুই বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া হলে দুই মাসের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব। তবে তিন বা তার বেশি বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া হলে সময় বেশি লাগবে। সে ক্ষেত্রে পুনর্নিরীক্ষণ, পরীক্ষার আয়োজন, পরীক্ষা গ্রহণ, উত্তরপত্র মূল্যায়ন ও ফল প্রকাশের জন্য তিন মাস পর্যন্ত সময় প্রয়োজন হতে পারে।
কত বিষয়ে অকৃতকার্য হলে পরীক্ষা দেওয়া যাবে
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সূত্র জানায়, ১২ অক্টোবরের সভায় অন্তর্বর্তী পরীক্ষার ধরন, সম্ভাব্য পরীক্ষার্থীর সংখ্যা, কতটি বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া হবে এবং পরীক্ষার সময়সূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় এলেও পরে অন্যান্য বিষয়েও পরীক্ষা নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে কথা হয়।
অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, বোর্ড চেয়ারম্যানরা পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে তাঁদের মতামত দিয়েছেন। তবে শুধু দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা এ সুযোগ পাবেন, নাকি তিন বা তার বেশি বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য চলতি বছর থেকেই অন্তর্বর্তী পরীক্ষা চালুর উদ্যোগ বাস্তবায়নের পক্ষে মত দিয়েছেন বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা।
এর আগে, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পরবর্তী পরীক্ষার জন্য এক বছর অপেক্ষা না করিয়ে তিন মাসের মধ্যে অনুত্তীর্ণ বিষয়ে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন।
গত ১০ অক্টোবর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের উইন্ডি টাউনে গণসাক্ষরতা অভিযান ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘চ্যালেঞ্জড শিক্ষার্থী সম্মেলন-২০২৬’-এ বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন।
মাহদী আমিন জানান, এবার এসএসসি পরীক্ষায় প্রায় ৬ লাখ ৯ হাজার শিক্ষার্থী কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করতে পারেনি। এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের বিষয়টি সরকার উপেক্ষা করতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, এসব শিক্ষার্থীর জন্য উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, একটি বিষয়ে খারাপ ফল করার কারণে একজন শিক্ষার্থীর অন্য সব মেধা ও সৃজনশীলতা নষ্ট হয়ে যায় না। তাই শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কিংবা সনদের ভিত্তিতে একজন মানুষের জীবন মূল্যায়ন করা উচিত নয়।
এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ১২ লাখ ৭০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী
শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ জুলাই দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৮ আগস্ট। ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ হয় ১৫ আগস্ট।
এ বছর এইচএসসি, আলিম, এইচএসসি (বিএম/বিএমটি), এইচএসসি (ভোকেশনাল) ও ডিপ্লোমা-ইন-কমার্স পরীক্ষায় ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন।
পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে। এতে অংশ নেয় ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এ বছর নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়।
সংবাদটি ভালো লাগলে স্যোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন