এশিয়ার প্রাচীনতম বাংলা সংবাদপত্র প্রথম প্রকাশ ১৯৩০

প্রিন্ট রেজি নং- চ ৩২



……………………………

চোরাই গরুর পাল মাড়িয়ে দিচ্ছে কৃষকের ধান

Daily Jugabheri
প্রকাশিত time ago 33 minutes
চোরাই গরুর পাল মাড়িয়ে দিচ্ছে কৃষকের ধান

নিজস্ব সংবাদদাতা, গোয়াইনঘাট ::: সিলেটের গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার দমদমা ও তুরুং সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় চোরাই গরুর অবাধ চলাচলের অভিযোগ উঠেছে। রাতের আঁধারে সীমান্ত দিয়ে আসা এসব গরুর পাল কৃষকের ফসলি জমির ওপর দিয়ে চলাচল করায় রোপণ করা ধানের চারা নষ্ট হচ্ছে। এতে সীমান্তবর্তী এলাকার কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

ভুক্তভোগী কৃষক রফিক উদ্দিন জানান, শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে প্রায় দুই শতাধিক ভারতীয় গরু তাঁর ২৫ শতক জমির ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় কয়েক দিন আগে রোপণ করা ধানের চারা মাড়িয়ে নষ্ট করে। তাঁর দাবি, গত তিন-চার মাস ধরে ভারতীয় গরুর কারণে সীমান্ত এলাকার কৃষকদের ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে।

রফিক উদ্দিন অভিযোগ করেন, দমদমা সীমান্তের কথিত লাইনম্যান ইমরান হোসেন কালা ও আবু সাঈদের মাধ্যমে রাতে ভারত থেকে গরু আনা হচ্ছে। এ কাজে বিজিবির কিছু অসাধু সদস্যকে ‘ম্যানেজ’ করারও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর ক্ষতিগ্রস্ত জমিটি দমদমা বিজিবি ক্যাম্প থেকে আনুমানিক ২০০ গজ দূরে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্যাম্পের এত কাছে দিয়ে নিয়মিত গরু চলাচল কীভাবে হচ্ছে, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।

আরেক ভুক্তভোগী কৃষক ও মুক্তিযোদ্ধা আজহার আলী অভিযোগ করেন, ইমরান, আবু সাঈদসহ কয়েকজন ভারতীয় গরু আনার সঙ্গে জড়িত। রাতের আঁধারে গরুর পাল চলাচলের সময় পুকুরপাড়ের গাছপালা ও বাড়ির আশপাশের স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এতে বাধা দিলে হুমকি-ধমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন এই কৃষক।

কৃষক জসিম উদ্দিন বলেন, ভারতীয় গরুর কারণে তাঁর কয়েক বিঘা জমির ধানের চারা নষ্ট হয়েছে। লাইনম্যান ইমরান হোসেন কালা ও আবু সাঈদকে গরুর পাল দিয়ে ধানের চারা নষ্ট না করার জন্য বারবার বলা হলেও তাঁরা বিষয়টি আমলে নেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর আরও অভিযোগ, দমদমা সীমান্তের ওই দুই কথিত লাইনম্যানসহ কয়েকজন গরুপ্রতি এক হাজার টাকা করে আদায় করছেন। বিষয়টি বিজিবি ক্যাম্পে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কথিত লাইনম্যান হিসেবে যাদের নাম আসছে, তাঁদের মধ্যে ইমরান ও আবু সাঈদ দমদমা সীমান্তে বিজিবি সদস্য মাসুম বিল্লাহর ওপর হামলার মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। তাঁদের অভিযোগ, বিজিবির কিছু সদস্যকে ‘ম্যানেজ’ করে রাতের আঁধারে সীমান্ত দিয়ে গরু আনা হচ্ছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইমরান হোসেন কালা। তিনি বলেন, বর্তমানে তিনি কোনো লাইনম্যানের দায়িত্বে নেই এবং অনেক আগেই এ ধরনের কাজ ছেড়ে দিয়েছেন। কৃষকের ধান যারা নষ্ট করেছে, তাঁদের কাছে অভিযোগ করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘বিজিবি ও সাংবাদিককে বলে লাভ কী?’

অভিযোগের বিষয়ে দমদমা বিওপির নায়েব সুবেদার মোশাররফ হোসেন বলেন, বর্তমানে ‘লাইনম্যান’ বলতে কোনো কার্যক্রম নেই। কোনো বিজিবি সদস্য এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন। কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

তিনি আরও বলেন, সন্ধ্যার পর সীমান্তে বিজিবি কঠোর অবস্থানে থাকে এবং নিয়মিত টহল পরিচালনা করা হয়। নজুরভাঙা থেকে ভিতরগুল পর্যন্ত বিজিবির টহল ছিল। গরু নিয়ে যাওয়ার সময় ধাওয়া খেয়ে কিছু ফসল নষ্ট হয়ে থাকতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের ছেলে ক্যাম্পে এসে বিষয়টি জানিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে রুস্তুমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন শিহাব বলেন, ভুক্তভোগী কৃষক রফিক উদ্দিন তাঁর কাছে এসেছিলেন। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা গরু আনলে রাস্তা দিয়ে আনতে পারেন; কিন্তু কৃষকের ফসলি জমি নষ্ট করে গরু আনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ফসলি জমি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদটি ভালো লাগলে স্যোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
04 September 2026

চোরাই গরুর পাল মাড়িয়ে দিচ্ছে কৃষকের ধান

বিস্তারিত কমেন্টে