এশিয়ার প্রাচীনতম বাংলা সংবাদপত্র প্রথম প্রকাশ ১৯৩০

প্রিন্ট রেজি নং- চ ৩২

২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৯ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

……………………………

সুনামগঞ্জে বিভিন্ন হাওরের বৃষ্টিতে ডুবছে পাকা ধান, হাওরজুড়ে হাহাকার

Daily Jugabheri
প্রকাশিত ২৯ এপ্রিল, বুধবার, ২০২৬
সুনামগঞ্জে বিভিন্ন হাওরের বৃষ্টিতে ডুবছে পাকা ধান, হাওরজুড়ে হাহাকার

যুগভেরী ডেস্ক ::: উজান থেকে থেকে আসা ঢল ও টানা বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের বিভিন্ন হাওরের পাকা ধান ডুবে গেছে। গতকাল সোমবার ও আজ মঙ্গলবার হওয়া বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে এ ধান। ফলে হাওরজুড়ে কৃষকদের মধ্যে হাহাকার দেখা গেছে।

নলুয়ার হাওরের দাসনোওয়াগাঁও গ্রামের কৃষক সারদা চরন দাস জানান, তিনি ১৬ কেদার জমি আবাদ করেছিলেন। মাত্র এক কেদার জমির ফসল তুলতে পেরেছেন। গত দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে সব জমি তলিয়ে গেছে। কৃষি শ্রমিক সংকট থাকায় তিনি অনেক চেষ্টা করেও ফসল ঘরে আনতে পারেননি।

তিনি কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার সব শেষ হয়ে গেল। বোরো ফসলের ওপর নির্ভরশীল আমার পরিবার। ধারদেনা করে জমি আবাদ করেছিলাম। এখন সারাবছর কীভাবে চলব?’

কথা হয় সাবেক চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রনধির দাস নান্টুর সঙ্গে। তিনি জানান, নলুয়ার হাওরের অধিকাংশ জমির ফসল তুলতে পারেননি কৃষকরা। শুরুতেই জলাবদ্ধতা, শ্রমিক সংকট ভুগতে হয়। গত দুই দিনের অব্যাহত বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চলের সব জমি তলিয়ে গেছে। ধারণা কমপক্ষে দেড়-দুই হাজার হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে।

নলুয়ার হাওরের কৃষক এখলাছ মিয়া, মধু মিয়া, গৌরাঙ্গ দাস, হরিন্দ্র দাস বৃষ্টিতে তাদের ফসল তলিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে বলেন, পানি নিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় ভারী বৃষ্টিতে ফসল ডুবে গেছে। হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ এবার মরণফাঁদ হয়ে দেখা দিয়েছে।

এ দিকে অতিবৃষ্টিতে জগন্নাথপুরের মইয়া ও পিংলার হাওরসহ উপজেলার বিভিন্ন হাওরে আধা-পাকা ধান ডুবে যাচ্ছে।

জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ বলেন, নলুয়ার হাওরের ৫০ ভাগ জমির ধান কাটা শেষ। জলাবদ্ধতা ও শ্রমিক সংকটের কারণে বহু কৃষক ধান তুলতে বেগ পাচ্ছেন। এরই মধ্যে টানা বৃষ্টিতে ফসলের কিছু ক্ষতি করছে। তবে এখনই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বলা যাচ্ছে না। নৌকা দিয়ে ধান তোলার চেষ্টা চলছে। এ বছর জগন্নাথপুর উপজেলায় ২০ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসলাম উদ্দিন বলেন, ‘আমি হাওরে আছি। কৃষকদের কীভাবে সহায়তা করা যায় সেই চেষ্টা করছি

সংবাদটি ভালো লাগলে স্যোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন