এশিয়ার প্রাচীনতম বাংলা সংবাদপত্র প্রথম প্রকাশ ১৯৩০

প্রিন্ট রেজি নং- চ ৩২

২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৩রা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

……………………………

বৈশ্বিক বাস্তবতায় তেলের মূল্য খুব সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে সিলেট বাণিজ্যমন্ত্রী-মুক্তাদির

Daily Jugabheri
প্রকাশিত time ago 3 hours
বৈশ্বিক বাস্তবতায় তেলের মূল্য খুব সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে সিলেট বাণিজ্যমন্ত্রী-মুক্তাদির

যুগভেরী ডেস্ক ::: জ্বালানী তেলের মূল্য বাড়লেও পণ্যমূল্য খুব বেশি বাড়বে না জানিয়ে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, খাদ্যদ্রব্য জ্বালানী তেলের তৈরি না। এটি পরিবহনে তেল লাগে। ম্যানুফেকচারিং ইন্ডাস্ট্রিতেও জ্বালানী খরচ হয় মোট উৎপাদন খরচের ৭/৮ শতাংশ। ফলে পণ্যমূল্য খুব বেশি বাড়বে না।

জ্বালানীর মূল্য বৃদ্ধির যৌক্তিকতা তুলে ধরে তিনি বলেন, সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে, অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে ও বর্তমান বিশ্ববাস্তবতার প্রেক্ষাপটে তেলের মূল্য খুব সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এইটুকু বৃদ্ধি না করলে আমদানি ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। আমদানি মূল্য বাড়লে ভোক্তা পর্যায়ে মূল্য বাড়বে এটিই স্বাভাবিক। পুরো বিশ্বজুড়েই জ্বালানী তেলের মূল্য বেড়েছে। উন্নত দেশগুলোতেও বেড়েছে।

সোমবার সকালে সিলেটের সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে হাম ও রুবেলার টিকাদান ক্যাম্পেইন উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, জ্বালানির দান বৃদ্ধির কারণে যাতে মূল্যস্ফীতির প্রভাব বিভিন্ন সেক্টরে না পরে সেজন্য সরকার সচেতন আছে। কৃষককে ডিজেলের জন্য সরকার ভর্তুকি দেয়। অন্যান্য ক্ষেত্রেও সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখবে।

স্বাস্থ্যখাত নিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বিগত দুই বছর স্বাস্থ্যখাতে ব্যপক অনিয়মের কারণে এবছর পরিস্থিতি এমন রূপ নিয়েছে । তবে সরকার এটি মোকাবিলায় যা যা করা দরকার তা করছে।

এরআগে টিকাদান কর্মসূচীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সরকার জনস্বাস্থ্যের বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। টিকাদান কার্যক্রম যেভাবে এগিয়ে চলছে, তাতে আশা করা যায় অচিরেই দেশব্যাপী হামের প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে সিলেটে শিগগিরই ২৫০ শয্যার একটি হাসপাতাল চালু করা হবে। সিলেটের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে যে অসন্তোষ রয়েছে তা দূর করতে সরকার কাজ করছে।

তিনি উল্লেখ করেন, বিভিন্ন সামাজিক সূচকে সিলেট পিছিয়ে রয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার—আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এই বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে কাজ করা হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন সফল করতে সিসিকের সংশ্লিষ্টরা দিনরাত পরিশ্রম করছেন। ইতোমধ্যে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে একাধিক মতবিনিময় সভা করা হয়েছে এবং ব্যাপক প্রচার কার্যক্রম চালানো হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই ক্যাম্পেইন শতভাগ সফল হবে।

তিনি বলেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকায় হামের প্রকোপ তুলনামূলক কম হলেও শিশুদের শতভাগ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আমরা এই ক্যাম্পেইন সফল করতে বদ্ধপরিকর। কোনো ধরনের গুজবে কান না দিয়ে সকল অভিভাবককে তাদের শিশুদের টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম। সিলেট সিটি কর্পোরেশন ও স্বাস্থ্য বিভাগীয় পরিচালকের কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সহকারী পরিচালক ডা. নূরে আলম শামীম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তা ডা. সুফি মো. খালিদ বিন লুৎফুর, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী এবং ইউনিসেফের সিলেট ফিল্ড অফিসের প্রধান মির্জা ফজলে এলাহী।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন সিসিকের সচিব মো. আশিক নূর, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াত, অগ্রগামী বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহেদা গুলশান সিদ্দিকা প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সিলেট বিভাগে ১৩ লাখ ৫১ হাজার ৯৬৯ হাজার শিশুকে টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। সিলেট জেলায় ৪ লাখ ৬৫ হাজার ৩৫৪, যার মধ্যে সিলেট সিটি করপোরেশনসহ ৬৮ হাজার ৫৮০ জন, মৌলভীবাজারে ২ লাখ ১০ হাজার ১৮৬, হবিগঞ্জে ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৯৪১ এবং সুনামগঞ্জে ৩ লাখ ৪৪ হাজার ৫৮৮ জনকে টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মাসব্যাপী সিলেট সিটি করপোরেশন ৮৪ টি কেন্দ্রে এই টিক দেওয়া হবে। সিলেট বিভাগে এখন পর্যন্ত হাম ও রুবেলার রোগের উপসর্গ নিয়ে ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

এর আগে প্রায় শতকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সিলেট জেলা হাসপাতাল ও শহীদ শামসুদ্দিন আহমেদ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন মন্ত্রী।

 

সংবাদটি ভালো লাগলে স্যোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন