এশিয়ার প্রাচীনতম বাংলা সংবাদপত্র প্রথম প্রকাশ ১৯৩০

প্রিন্ট রেজি নং- চ ৩২

৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৫শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২১শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

……………………………

আদালতের আদেশ অমান্য করে ছাতকের জাউয়াবাজার ইজারা প্রদান : সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ

Daily Jugabheri
প্রকাশিত ১৭ এপ্রিল, বুধবার, ২০২৪

যুগভেরী ডেস্ক ::: উচ্চ আদালতের আদেশ অমান্য করে সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার জাউয়াবাজার ইজারা দেওয়ার বন্দোবস্ত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। এতে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জাউয়া গ্রামের শফিক উদ্দিনের ছেলে মো. আজির উদ্দিন।
আজ বুধবার (১৮ এপ্রিল) সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ১৪২৯ বাংলা সালের জন্য তিনি জাউয়াবাজার ইজারা নিয়েছিলেন ২ কোটি ২২ লাখ ৩০ হাজার ৬৫০ টাকায়। পরের বছর ১ কোটি ৬৪ লাখ ৪৬ হাজার ৩০০ টাকায় বাজারটি ইজারা নেন কৈতক গ্রামের নূর উদ্দিনের ছেলে ফাহিম আহমদ। কিন্তু ১৪৩১ সালের ইজারা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশে অত্যন্ত গোপনীয়তা অবলম্বন করে উপজেলা প্রশাসন। ব্যাপক প্রচার না করেই তারা গত ১৫ ফেব্রুয়ারি দরপত্রের শেষ তারিখ নির্ধারণ করে গোপন আঁতাতের মাধ্যমে ইজারার নাটক সাজিয়ে দেবেরগাঁওয়ের জাহাঙ্গীর আলমকে মাত্র ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকায় ইজারা দেওয়ার আয়োজন করে।
বিষয়টি জানাজানি হলে আমি গত ১৯ ফেব্রুয়ারি উপজেলা চেয়ারম্যান ও নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর পূনরায় দরপত্র আহ্বানের আবেদন করি। কিন্তু তারা আমার আবেদন আমলে না নিয়ে জাহাঙ্গীর আলমকেই ইজারা প্রদানের ঘোষণা দেন।
এর প্রতিবাদে হাটবাজার ইজারা নীতিমালা অমান্য করে জাউয়াবাজার ইজারা দেয়ার অভিযোগে হাইকোর্টে রীট পিটিশন (নং ৩৩২০/২০২৪) দায়ের করা হয়।
বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও খিজির হায়াৎ-এর বেঞ্চে শুনানী শেষে ইজারা প্রদানের প্রক্রিয়া তিন মাসের জন্য স্থগিতের আদেশ দেয়। এ আদেশ চ্যালেঞ্জ করে জাহাঙ্গীর আলম সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগে সিএমপি (নং ২৯৮/২০২৪) আপিল দায়ের করেন। আপিল শুনানী শেষে চেম্বার আদালত ২২ এপ্রিল, ২০২৪ পর্যন্ত জাউয়াবাজার ইজারা কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ জারি করেন।
মো. আজির উদ্দিন অভিযোগ করেন, আদালতের এই স্থগিতাদেশ আমলে না নিয়ে জাহাঙ্গীর আলমকে ইজারাদার ঘোষণা করতে অনঢ় প্রশাসন। ফলে স্থগিতাদেশ থাকা অবস্থায় বর্তমান ইজারাদার ফাহিম ইজারা মাশুল আদায় চলমান রাখার আবেদন করলেও উপজেলা প্রশাসন তা উপেক্ষা করছে। উপজেলা প্রশাসন কমমূল্যে জাহাঙ্গীর আলমকে ইজারা দেওয়ার সকল বন্দোবস্ত করে রেখেছেন।
বেআইনীভাবে বাজারের ইজারা জাহাঙ্গীর আলমকে দেয়া হলে এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ও দাঙ্গা-হাঙ্গামার আশঙ্কায় বিষয়টিও ছাতকের পুলিশ প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে বলে জানান আজির উদ্দিন।
উচ্চ আদালতের আদেশের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে জাহাঙ্গীর আলমকে জাউয়াবাজার ইজারা কার্যক্রমে অংশ নেয়ার সুযোগ না দিতে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান আজির উদ্দিন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন হেলাল উদ্দিন, সৈয়দুল ইসলাম, লোকমান হোসেন, মিজানুর রহমান আবু, লিমন মিয়া প্রমুখ।

সংবাদটি ভালো লাগলে স্যোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন