এশিয়ার প্রাচীনতম বাংলা সংবাদপত্র প্রথম প্রকাশ ১৯৩০

প্রিন্ট রেজি নং- চ ৩২

১৪ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
৩০শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
৮ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি

গোয়াইনঘাটে কর্মসংস্থা ও গ্রামীণ সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে ইজিপিপি প্রকল্প

Daily Jugabheri
প্রকাশিত ০৫ জুন, বুধবার, ২০২৪ ১৯:৩৪:৪৪
গোয়াইনঘাটে কর্মসংস্থা ও গ্রামীণ সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে ইজিপিপি প্রকল্প

দূর্গেশ সরকার বাপ্পী,গোয়াইনঘাটঃ সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বন্যার ক্ষতিগ্রস্ত অতিদরিদ্র পবিবারের আর্থিক কর্মসংস্থা হবে এবং বন্যার বিধস্ত ২১২ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে।  বিগত দিনে গোয়াইনঘাট উপজেলায় গ্রামীণ সড়ক সংস্কার ও অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছিল ইজিপিপি প্রকল্প। কর্মক্ষম দুস্থ পরিবারগুলোকে কর্মহীন মৌসুমে স্বল্পমেয়াদী কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি স্বল্প মেয়াদী কর্মসংস্থানের মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষায় ইজিপিপি প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখেবে জানান গোয়াইনঘাট উপজেলার জন প্রতিনিধিরা। বেকারদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি কর্মসৃজনে পাল্টে যায় গোয়াইনঘাট উপজেলার গ্রামীণ রাস্তা ঘাটের বাস্তব চিত্র।   গোয়াইনঘাট উপজেলায় ২০১৪-২০১৫ অর্থ বছর থেকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর কতৃক বাস্তবায়িত অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি)  ২০১৯ – ২০২০ অর্থ বছর পর্যন্ত গোয়াইনঘাট উপজেলায় ইজিপিপি প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে প্রায় ৩ শতাধিক প্রকল্পে ২৮০ কিলোমিটার নতুন সড়ক নির্মাণ ও পুরাতন মাটির সড়ক সংস্কার করা সম্ভব হয়েছিল বলে জানিয়েছেন গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শীর্ষেন্দু পুরকায়স্থ। ২০২০ -২০২১ অর্থ বছর থেকে গোয়াইনঘাট উপজেলায় অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে পড়ে। ফলে নতুন ও পুরাতন মাটির সড়ক সংস্কার করা হয়নি। এছাড়া ২০২২ সালের স্মরণ কালের ভয়াবহ বন্যা সহ চলতি আকস্মিক বন্যায় ২৮০ কিলোমিটার মাটির সড়কের মধ্যে প্রায় ২১২ কিলোমিটার মাটির সড়ক বিধস্ত করেছে। বিধস্ত এসকল সড়ক কোথাও পূনরায় নির্মাণ আবার কোথাও সংস্কার করা অত্যন্ত জরুরী হয়ে দাড়িয়েছে। একটি উপজেলায় একইসাথে ২১২ কিলোমিটার মাটির সড়ক সংস্কার ও পুনরায় নির্মাণে ইজিপিপি প্রকল্পের বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন গোয়াইনঘাট নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও সাবেক জনপ্রতিনিধিরা। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) অফিস সূত্রে জানা যায়, (উপজেলা পরিষদ ও নির্বাচনী এলাকা ভিত্তিক উভয় খাতে (১ম+২য়+৩য় পর্যায়) টিআর – আড়াই কোটি, কাবিটা- ২ কোটি ও খাদ্যশস্য ৪ শত মেট্রিকটন চাল/গম মোট বরাদ্দ পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে সিলেট জেলা মুক্তি যোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার ও অবিভক্ত পূর্ব জাফলং ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বীরমুক্তি যোদ্ধা লুৎফুর রহমান লেবু বলেন গোয়াইনঘাট উপজেলাটির আয়তন ৪৮১.১৩ বর্গকিমিটার বা (১৮৫.৭৭ বর্গমাইল। যা আয়তনে মেহেরপুর জেলার চেয়েও বড়। উপজেলাটির গ্রামীণ অবকাঠামো ও বন্যায় বিধস্ত প্রায় ২১২ কিলোমিটার সড়ক পুনরায় নির্মাণ বা সংস্কার করতে টিআর,কাবিটা ও খাদ্য শস্যের বরাদ্দ দিয়ে সম্ভব নয়। গোয়াইনঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পশ্চিম আলীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া হেলাল জানান বিগত বছরগুলোতে টিআর,কাবিটা,কাবিখা ও খাদ্য শস্য বরাদ্দের পাশাপাশি গোয়াইনঘাট উপজেলায় শুধুমাত্র ইজিপিপি খাতেই ২ পর্যায়ে প্রায় ৮ কোটি টাকার বরাদ্দ পাওয়া যেতো। তারপরও গোয়াইনঘাট উপজেলার দুই-তৃতীয়াংশ গ্রামীণ এলাকার রাস্তা নির্মাণ সম্ভব হয়নি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেশের সেকল উপজেলায় মোট জনসংখ্যার ২০% এর উপরে লোকজন দরিদ্র সীমার নিচে বসবাস করে
যে সকল উপজেলায় (ইজিপিপি) বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসের দেয়া তথ্য অনুযায়ী গোয়াইনঘাট উপজেলায় ১৬.৬৭% লোক দরিদ্র সীমার নিচে বসবাস করেন। যেকারণে গোয়াইনঘাট উপজেলায় (ইজিপিপি) বরাদ্দ হয়না।  গোয়াইনঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও নন্দিরগাওঁ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস কামরুল হাসান আমিরুল বলেন আয়তন ও জনসংখ্যার দিক দিয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলাটি সিলেট বিভাগের সর্ববৃহৎ উপজেলা। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও স্থানীয় ভারি বর্ষনে উপজেলাটি প্রতিবছর ছোট-বড় অন্তত ১০/১২ টি বন্যায় শিকার হয়। এ উপজেলার ৯০ শতাংশ মানুষ কৃষি নির্ভর। একসময় দুটি পাথর কেয়ারীতে ১০ শতাংশ মানুষের কর্মসংস্থান থাকলেও তাও আবার ৬/৭ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। হাজার হাজার মানুষের বেকারত্বের এ উপজেলায় প্রকৃত পক্ষে ৩৫-৪০ ভাগ লোকজন দরিদ্র সীমার নিচে বসবাস করে। কিন্তু পরিসংখ্যানের ভুল তথ্যের কারণে গোয়াইনঘাট উপজেলাবাসী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি(ইজিপিপি) প্রকল্প থেকে বঞ্চিত। ডৌবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম নিজাম উদ্দিন জানান মৌলভীবাজার জেলার জুড়ি, শ্রীমঙ্গল হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট, আজমিরীগঞ্জ এবং সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই, শাল্লা, জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, শান্তিগঞ্জ ও জগন্নাথপুর উপজেলা গুলো গোয়াইনঘাট উপজেলা থেকে সর্বদিক দিয়ে উন্নত থাকলেও পরিসংখ্যান অফিস সঠিক তথ্য দেয়ায় আজ সেসব উপজেলায় অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি(ইজিপিপি) প্রকল্প চলমান রয়েছে।  গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আফিয়া বেগম বলেন,  সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা দারিদ্র্য বিমোচনে  অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি(ইজিপিপি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। আমি গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসের কর্মকর্তাদের বলবো দ্রুত উপজেলার প্রকৃত অতিদরিদ্রদের তালিকা প্রস্তুত করে সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগীতা করুন। আমরা বিশ্বাস করি জীবন চক্রমূখী সমন্বিত টেকসই সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট -২০৩০ ও রূপকল্প- ২০৪১ বাস্তবায়ন সম্ভবপর হবে। আমরা আশাবাদী, টেকসই সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসহ বর্তমান সরকারের গৃহীত উদ্ভাবনীমূলক পদক্ষেপের কারনে বাংলাদেশ মহামারী করোনার ক্ষতিসহ সাম্প্রতিক সময়ের সমস্যা পুষিয়ে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট-২০৩০ ও ভিশন-২০৪১ সফল বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে স্যোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন