এশিয়ার প্রাচীনতম বাংলা সংবাদপত্র প্রথম প্রকাশ ১৯৩০

প্রিন্ট রেজি নং- চ ৩২

২৪শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
১১ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
১৫ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি

সিলেটের উত্তরাঞ্চলের সীমান্তঘেষা অপরাধ প্রবণতা কেন ?

Daily Jugabheri
প্রকাশিত ২১ মার্চ, বৃহস্পতিবার, ২০২৪ ১৯:৩৫:২০
সিলেটের উত্তরাঞ্চলের সীমান্তঘেষা অপরাধ প্রবণতা কেন ?

দূর্গেশ সরকার বাপ্পী গোয়াইনঘাট (সিলেট):::  সিলেটের উত্তরাঞ্চলের বৃহৎ জনগোষ্ঠী পথর কোয়ারী উপর নির্ভরশীল,নেই কোন বিকল্প কর্মসংস্থান। তিন দিন বেড়েই চলচ্ছে সীমান্তবর্তী অপরাধ প্রবণতা ও বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা। ভারত সীমান্ত ঘেষা জনপদ গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা। পাথর কোয়ারী সংশ্লিষ্ট কর্মহীন শ্রমিকরা এখন সীমান্তবর্তী অপরাধ প্রবণতা লিপ্ত, চোরাচালানের উপর নির্ভরশীল বর্তমানে তাদের রোজী রুটি। তথ্যমতে, জাফলংয়ের ১৮৮ দশমিক ৭০ হেক্টর জায়গা পাথর কোয়ারি (পাথর উত্তোলনস্থল) চিহ্নিত করে ইজারা-ব্যবস্থার মাধ্যমে ১৯৮০ সাল থেকে পাথর উত্তোলন শুরু হয়। দীর্ঘদিন যাবত রহস্যজনক কারণে বন্ধ হয়ে গেছে পাথর উত্তোলন। ভরা মৌসুমেও বন্ধ রয়েছে সিলেটের সবক’টি পাথর কোয়ারি। ভোলাগঞ্জ, জাফলং, বিছনাকান্দি, শ্রীপুর, লোভাছড়ায় পাথর উত্তোলনে নেই শ্রমজীবী মানুষের তৎপরতা। গর্ত সমুহে শ্রমিকদের কণ্ঠে পালা করে জারী-সারী বাউল গানের সুরও হারিয়ে গেছে। নেই পাথরবাহী ট্রাক্টর, ট্রাকের দীর্ঘ লাইনের সারি। অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি পাথর আহরণ এবং বিপণন হঠাৎ করে বন্ধ করে দেয়ায় সিলেটের উত্তরাঞ্চলের বৃহৎ জনগোষ্ঠী অবর্ণনীয় দুঃখ-কষ্টে চলছে সংসার। বেড়ে চলেছে অপরাধ প্রবণতা। একই সাথে আহরিত এ পাথর বিপণনের সাথে সংশ্লিষ্ট লক্ষ লক্ষ পাথর উত্তোলন শ্রমিক, হাজার হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, স্টোন ক্রাশার, মিল মালিক, পাথর ব্যবসায়ী, ট্রাক-ট্রাক্টর শ্রমিক, বার্জ, কার্গো, নৌকা মালিক শ্রমিক, পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেছিল। কিন্তু এখন তা বন্ধ। জীবিকার তাগিদে সীমান্ত জনপদের কোয়ারির শ্রমিকরাই আজ বিপদগামী। সীমান্ত ঘেষা ভারত থেকে অবৈধ পথে বিভিন্ন ভাবে দেশে প্রবেশ করছে রাতের আধারে ,গরু,মহিষ,চিনি,পেঁয়াজ, কাপর,কসমেটিক ও নেশা যাতীয় দ্রব্য। অনেক সময় ভারতীয় সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে প্রান হারিয়েছেন অনেকেই।বাংলাদেশ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সীমান্তবর্তী অভিযানে অবৈধ পথে প্রবেশ কালে গ্রেফতার হয়ে জেল জরিমানায় হয়েছে অনেকের। ভারত সীমান্তবর্তী গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা। অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানাযায় ভারত থেকে অবৈধভাবে চোরাইপথে আসা পণ্য বহন করছে এর বেশিরভাগ লোক পথর কোয়ারী শ্রমিক, দীর্ঘদিন পাথর কোয়ারী বন্ধ থাকায় কারণে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবতার দিনযাপন করছে। কর্মহীন হয়ে পরা শ্রমিরা বিকল্প কর্ম সংস্থা না থাকার করণে জীবন ঝুঁকি নিয়ে ভারত থেকে অবৈধ পণ্য পরিবহনের কাজ করছে তারা। অবৈধ পথে প্রবেশ হওয়া মালা মাল বহনকারী ট্রাক, পিকাআপ,ডিআই, পরিবহনের সময় বেপরোয়া গতির কারণে বেড়েছে সড়ক দুর্ঘটনা, সিলেটের উত্তরাঞ্চলের সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন পরিবারের উপার্জনশীল ব্যক্তি। বিগত ৬ মাসে সিলেট তামাবিল মহাসড়কে দূর্ঘটনায় ২০জনের প্রাণ হারন এবং এসব দূর্ঘটনায় অসংখ্য মানুষ পঙ্গুত্ববরণ করেন। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, স্টোন ক্রাশার, মিল মালিকদের অনেকেই বলেন পথর কোয়ারী বন্ধহওয়ার কারণে ঋনগ্রস্ত,অনেকই ব্যাংক থেকে ঋন নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন এখন ঋন পরিশোধ করতে ভিটামাটি বিক্রি করতে হচ্ছে। পাথর সংশ্লিষ্ট একাদিক ব্যক্তিরা জানান,পাশবর্তী দেশ ভারত থেকে অবৈধভাবে আসা পণ্য প্রবেশ করলে, সরকার বাহাদুর হারাচ্ছেন রাজস্ব,আর বেশিরভাগ লোক হচ্ছেন বিপদগামী। সিলেটের উত্তরাঞ্চলের গোয়াইনঘাট,জৈন্তাপুর, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সচেত মহলের অনেকেই বলেন, তিন উপজেলার পাথর কোয়ারী ছাড়া বিকল্প কর্মসংস্থানের নেই কোন শিল্পকারখানা। সরকার গোয়াইনঘাট,জৈন্তাপুর, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন শিল্পের জন্য আলাদা আলাদা শিল্পনগরী গড়ে তোলাসহ সর্বত্র শিল্প-কারখানা গড়ে তোলা হলে সুষম অথনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে বিরাজমান বহু সমস্যারই সুরাহা হতে পারে বলে মনে করেন সচেতন মহল। সিলেটের উত্তরাঞ্চলের গোয়াইনঘাট,জৈন্তাপুর, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলাবাসীর সরকার বাহাদুর কাছে দাবী বিকল্প কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত সনাতন পদ্ধতিতে পাথর কেয়ারী খোলে দওয়া হোক। বর্তমান সময়ে সিলেটের সিংহভাগ মানুষের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র মাধ্যম পাথর কোয়ারী থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় এ অঞ্চলের জনগণ অবর্ণনীয় দুঃখ কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। যুগ যুগ ধরে সিলেটের পাথর কোয়ারী সমূহে পাথর আহরণের মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষ জীবিকা নির্বাহ করলেও কয়েক বছর ধরে পাথর কোয়ারী বন্ধ থাকায় এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। পাথর সংশ্লিষ্ট কর্মহীন শ্রমজীবী মানুষের হাহাকার এবং বেকার হয়ে পড়া এ অঞ্চলের হাজারও পাথর ব্যবসায়ীদের বর্তমান সময়ে সিলেটের সিংহভাগ মানুষের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র মাধ্যম পাথর কোয়ারী থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় এ অঞ্চলের জনগণ অবর্ণনীয় দুঃখ কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। যুগ যুগ ধরে সিলেটের পাথর কোয়ারী সমূহে পাথর আহরণের মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষ জীবিকা নির্বাহ করলেও কয়েক বছর ধরে পাথর কোয়ারী বন্ধ থাকায় এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। পাথর সংশ্লিষ্ট কর্মহীন শ্রমজীবী মানুষের হাহাকার এবং বেকার হয়ে পড়া এ অঞ্চলের হাজারও পাথর ব্যবসায়ীদের মানবেতর জীবন যাপনের এ করুণ অবস্থার অবসানে এ অঞ্চলের পাথর কোয়ারী সমূহ পাথর শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রের জন্য খুলে দেয়া অপরিহার্য। অবিলম্বে সিলেটের পাথর কোয়ারী সমূহ সচল করে এ অঞ্চলের লাখো মানুষের অস্তিত্ব রক্ষায় ও দুঃখ মোচনে এগিয়ে আসার জন্য সংশ্লিষ্ট ভিবিন্ন উর্ধ্ব মহলের পানে তাকিয়ে আছে পাথর শ্রমিকেরা। অবস্থার অবসানে এ অঞ্চলের পাথর কোয়ারী সমূহ পাথর শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রের জন্য খুলে দেয়া অপরিহার্য। অবিলম্বে সনাতন পদ্ধতিতে সিলেটের পাথর কোয়ারী সমূহ সচল করে এ অঞ্চলের লাখো মানুষের অস্তিত্ব রক্ষায় ও দুঃখ মোচনে এগিয়ে আসার জন্য সংশ্লিষ্ট ভিবিন্ন উর্ধ্ব মহলের পানে তাকিয়ে আছে পাথর শ্রমিকেরা।

সংবাদটি ভালো লাগলে স্যোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন