যুগভেরী ডেস্ক ::: নাগরিক সেবাকে সহজীকরণের লক্ষ্যে প্রথমবারের মত সিলেটে চালু হচ্ছে ইলেকট্রনিক কনস্ট্রাকশন পারমিটিং সিস্টেম (ইসিপিএস)। এর মাধ্যমে সেবাপ্রার্থী ঘরে বসেই নাগরিক আবেদন সাবমিট করাসহ ট্রাকিং করতে পারবেন৷
এছাড়া প্রবাসীরা দ্রুততম সেবা নিশ্চিতে প্রবাসী এক্সপ্রেস সার্ভিসও এতে সন্নিহিত থাকবে। যাতে ১ মাসের মধ্যে প্রবাসীদের নকশা অনুমোদন সহ অন্যান্য সেবা প্রদান করা যায়৷ শনিবার দুপুরে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান সংস্থাটির চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদি৷
তিনি বলেন, আগামী ৫ অক্টোবর সারাদেশের মত সিলেটে প্রথমবারের মত বিশ্ব বসতি দিবস উদযাপন করবে সিউক। এদিন দুই দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য ও তাৎপর্যপূর্ণ বিভিন্ন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন সরকারের বাণিজ্য, শিল্প, ও বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
প্রথম দিনের অনুষ্ঠানমালায় থাকবে র্যালি, আলোচনা সভা, ইসিপিএস উদ্বোধন, শিক্ষার্থীদের নিয়ে আইডিয়া প্রতিযোগিতা, মডেল প্রদর্শনী, স্টল ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী৷
পরদিন নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, নগরের দু'টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, টেকসই নগরায়ন ও আবাসন বিষয়ক সেমিনার, আইডিয়া ও আলোকচিত্র প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত মূল্যায়ন, পুরস্কার বিতরণ, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও সমাপণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে।
এসব অনুষ্ঠানমালায় আধুনিক ও পর্যটনবান্ধব নগর বিনির্মানের পরিকল্পনা তুলে ধরবেন সংশ্লিষ্টরা।
দিবসকে কেন্দ্র করে সিলেটে এই প্রথমবারের মত আবাসন সংক্রান্ত সকল অংশীজনকে একই প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার পরিকল্পনার কথা জানান সিউক চেয়ারম্যান।
সিউকের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ যাত্রার শুরু থেকেই নাগরিক সেবা সহজ করার লক্ষ্যে কাজ করছে। ইসিপিএস তারই একটি বাস্তব প্রতিফলন। এর মাধ্যমে সেবাপ্রার্থীরা ঘরে বসেই আবেদন জমা দিতে পারবেন এবং আবেদনের অগ্রগতি অনুসরণ করতে পারবেন।
তিনি বলেন, প্রবাসীদের দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে ইসিপিএসের সঙ্গে ‘প্রবাসী এক্সপ্রেস সার্ভিস’ যুক্ত থাকবে। এর মাধ্যমে এক মাসের মধ্যে প্রবাসীদের নকশা অনুমোদনসহ অন্যান্য সেবা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
সিউক জানিয়েছে, আগে সিলেটে বিশ্ব বসতি দিবসের আয়োজন সিলেট গণপূর্ত বিভাগের উদ্যোগে হলেও এবারই প্রথম সিউক দিবসটি আয়োজন করছে। বিভাগীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে দুই দিনের কর্মসূচি সাজানো হয়েছে।
দিবসটি সামনে রেখে আবাসন খাতের বিভিন্ন অংশীজনকেও একই আয়োজনে যুক্ত করা হয়েছে। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের পাশাপাশি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও লিডিং ইউনিভার্সিটির পুরকৌশল ও স্থাপত্য বিভাগ, ইন্সটিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স, ইন্সটিটিউট অব আর্কিটেক্টস, ইন্সটিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, সিলেট অ্যাপার্টমেন্ট অ্যান্ড রিয়েল এস্টেট গ্রুপ এবং এসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড আর্কিটেকচারাল কনসালটেন্সি ফার্মসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এতে অংশ নিচ্ছে।
দুই দিনের আয়োজনে শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনীরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আবাসন ও নগরায়ণ বিষয়ে ভাবনা প্রতিযোগিতা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, বিভিন্ন মডেল প্রদর্শনী এবং আলোকচিত্র প্রদর্শনী। ইতিমধ্যে নগরায়ণসংক্রান্ত ৩০টির বেশি ভাবনা জমা পড়েছে বলে জানিয়েছে সিউক।
৬ অক্টোবর দ্বিতীয় দিনে পরিবেশ সুরক্ষায় আম্বরখানা গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ব্লু বার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হবে। এরপর টেকসই নগরায়ণ ও আবাসন বিষয়ে বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। একই দিন প্রতিযোগিতাগুলোর চূড়ান্ত মূল্যায়ন শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হবে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দুই দিনের আয়োজন শেষ হবে।
সিউকের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, সিলেটকে আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও পর্যটনবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সিউক কাজ করছে। পরিকল্পিত নগরায়ণে তরুণ প্রজন্মকে যুক্ত করার পাশাপাশি আবাসন খাতের সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে এক প্ল্যাটফর্মে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সুপরিকল্পিত সিলেট গড়ে তুলতে তরুণ শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের চিন্তা ও পরিকল্পনাকে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। বিশ্ব বসতি দিবসের বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে নগরায়ণ ও আবাসন বিষয়ে নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোরও চেষ্টা থাকবে।
সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতি : নূরুর রশীদ চৌধুরী, সম্পাদক : ফাহমীদা রশীদ চৌধুরী, সহকারী সম্পাদক : ফাহমীনা নাহাস
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : অপূর্ব শর্মা