
যুগভেরী ডেস্ক ::: আব্দুল কুদ্দুছ। তিনি যুক্তরাজ্যের লন্ডন মহানগর বিএনপি’র সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি । সে হিসেবে তিনি বিগত ১৭ বছর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের চক্ষুশূল হওয়ার কথা।কিন্তু ওই নেতার বেলায় সবকিছু উল্টো। যেখানে বিগত ১৭ বছর দেশে ফিরতে পারেননি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি'র চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা। কিন্তু লন্ডন মহনগর বিএনপি'র ওই নেতা বিগত ১৭ বছরে নির্বিঘ্নে দেশে এসেছেন একাধিকবার। আর এই দেশে আসা-যাওয়ার মুল কারণ হলেন সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এবং সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী। এ নিয়ে বিশ্বনাথ উপজেলা ও সিলেট জেলা বিএনপি'র নেতাকর্মী এবং যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত বিএনপি, যুবদল অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে ক্ষোভ ও ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা।
বিএনপি'র একাধিক সুত্র জানায়, লন্ডন মহানগর বিএনপি'র সাবেক সহসভাপতি আব্দুল কুদ্দুছ ছিলেন স্বৈরাচার সরকারের প্রভাবশালী প্রতিমন্ত্রী ও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরীর আস্থাভাজন। তিনি ওই সময় বারবার দেশে এসে এবং দেশের বাইরে থেকে শফিকুর রহমানকে নৌকা মার্কায় বিজয়ী করতে আর্থিক অনুদান প্রদান করেছেন। আর ভোটারদেরকে নৌকায় ভোট দিতে প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছেন। আর আব্দুল কুদ্দুছ দেশে এলে স্বৈরাচার সরকারের মন্ত্রী শফিকুর রহমানের গাড়ি করে ঘুরে ঘুরে আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করতেন। এমনকি তিনি নিজে উপস্থিত থেকে একটি স্কুলের অনুষ্ঠানে শফিকুর রহমানকে হাতধরে মিছিলসহকারে গ্রহণ করে নিয়ে সংবর্ধনা প্রদান করেন। আর এই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের মধ্যে ব্যপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, বিএনপিতে দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় ও সুবিধাবাদী হাইব্রিড নেতাদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। অন্যদিকে বিগত সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও ত্যাগী নেতাকর্মীরা সুবিধাবাদীদের ষড়যন্ত্র-তত্ত্বে কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন। এমনকি দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার ন্যূনতম মূল্যায়ন থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। এতে অসন্তোষ বাড়ছে দলটির কেন্দ্র থেকে তৃণমূলে।
দুঃসময়ে মামলা-হামলার ভয়ে যারা নিজেদের গুটিয়ে রেখেছিলেন, তারা এখন খোলস পাল্টে নানা কর্মে লিপ্ত এবং আবির্ভাব ঘটছে হাইব্রিডদেরও। সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন অনুষ্ঠান, এমনকি প্রশাসনিক দপ্তরে বিএনপির দাপুটে ‘হর্তাকর্তা’ হিসাবেও জাহির করছেন তারা। এসব ব্যক্তির নানা কর্মকাণ্ডের দায় বিএনপির ওপর চাপছে। নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে দলের ওপর। যদিও সুযোগসন্ধানী, সুবিধাবাদী ও হাইব্রিড নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় জমেছে দলটির কেন্দ্রে। এ বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ দেখাচ্ছে বিএনপি। অভিযোগ পেলেই তাৎক্ষণিকভাবে সাংগঠনিক ব্যবস্থাও নিচ্ছে দলটি।
অভিযুক্ত সুবিধাবাদীদের ‘বসন্তের কোকিল’ উল্লেখ করে তাদের থেকে সতর্ক থাকতে ইতোমধ্যে দলীয় নেতাকর্মীদের বার্তা দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৫ আগস্টের পর বিতর্কিত ব্যক্তি ও সুবিধাবাদীরা নানা কৌশলে বিএনপিতে সক্রিয় হচ্ছেন। থাকছেন মিছিল-মিটিংয়ের সামনের সারিতে। পাশাপাশি নানা সুবিধা নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদেরও তারা দলে ভেড়াচ্ছেন। তাদের দিয়েই বিএনপির নাম ভাঙিয়ে নানা অপকর্মে জড়িয়ে দলটির ভাবমূর্তি বিনষ্ট করছেন। বিভিন্ন কমিটিতে তারা আওয়ামী লীগের দোসরদের সুযোগ করে দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। বিএনপির কেন্দ্রে এ নিয়ে দলটির ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের অনেকেই লিখিত অভিযোগও করছেন।
সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগী বা হাইব্রিড নেতাদের বিএনপিতে যোগ দিয়ে সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার প্রবণতা এবং অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিএনপি কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের সাথে সাথে অনেক সুবিধাভোগী নেতার দলবদল বা বিএনপির ছত্রছায়ায় আসার চেষ্টা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এই বিষয়ে বিএনপির নীতি ও বর্তমান দলের নাম ভাঙিয়ে কোনো সাবেক সুবিধাভোগী বা অনুপ্রবেশকারী যাতে চাঁদাবাজি, দখলবাজি বা কোনো অনৈতিক সুবিধা নিতে না পারে, সেজন্য বিএনপি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগে অনেক নেতাকর্মীকে বহিষ্কার ও পদচ্যুত করা হয়েছে। কিন্তু এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছেন আব্দুল কুদ্দুছ ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিলেট জেলা বিএনপি ও যুক্তরাজ্য বিএনপি'র একাধিক নেতা জানিয়েছেন, সাবেক ফ্যাসিস্ট সরকারের সুবিভোগী এবং নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের সাথে আতাতকারি কাউকে ছাড় দেওয়া হবেনা। এমনকি যুক্তরাজ্য বিএনপি'র কোন নেতৃবৃন্দের আওয়ামী লীগ কানেকশন থাকলে, তার বিরুদ্ধে অবশ্যই সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতি : নূরুর রশীদ চৌধুরী, সম্পাদক : ফাহমীদা রশীদ চৌধুরী, সহকারী সম্পাদক : ফাহমীনা নাহাস
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : অপূর্ব শর্মা