দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি ::: সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বামেরবন্দ গ্রামে দিনদুপুরে গাঁজা সেবনকে কেন্দ্র করে মুক্তার আলী নামে এক ব্যক্তির বসতবাড়িতে সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালিয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে বামেরবন্দ গ্রামের তাহের উদ্দিনের ছেলে মুক্তার আলীর বসতবাড়িতে এ হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন তিনি ও তার স্ত্রী রানু বিবি।
মুক্তার আলীর অভিযোগ, সকালে আমার গাঁজা সেবন কে কেন্দ্র করে কয়েকজন কথিত অসাধু যুবক সংঘবদ্ধভাবে তার বসতবাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র ও স্থাপনা ভাঙচুরের পাশাপাশি টাকা-পয়সা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। হামলাকারীদের বাধা দিতে গেলে তার স্ত্রী রানু বিবির সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি হয় এবং একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় তার বড় ভাই শাফির উদ্দিন এগিয়ে এলে তাকেও গালিগালাজ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
মুক্তার আলী সাংবাদিকদের বলেন, আমি আগে গাঁজা সেবন করতাম, তবে বর্তমানে এসব ছেড়ে দিয়েছি। এরপরও হঠাৎ করে সমাজের কিছু কথিত অসাধু যুবক সংঘবদ্ধ হয়ে রাতে আমার বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও টাকা-পয়সা নিয়ে গেছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু প্রতিকার চাই।
তবে মুক্তার আলীর অভিযোগের বিষয়ে এই সমাজের স্থানীয় ব্যক্তিরা ভিন্ন দাবি করেছেন। এদের মধ্যে জালাল মিয়া, সুহেল মিয়া ও রুবেল মিয়া সহ অনেকের দাবি, মুক্তার আলী দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন ও বিক্রিসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তার এসব কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকার সামাজিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বলেও তারা অভিযোগ করেন। মাদক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড বন্ধের উদ্দেশ্যেই তার বাড়িঘরে ভাঙচুর করা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
এ বিষয়ে যুবদল নেতা সুলতান আহমদ বলেন, “মুক্তার আলীর গাঁজা সেবন ও বিক্রির কারণে এলাকার যুবসমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণেই এলাকার কিছু যুবক এ ঘটনা ঘটিয়েছে। সমাজে মাদক চলতে দেওয়া হবে না—এটাই সমাজের মানুষের দাবি।
তবে স্থানীয়রা বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের মতো ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বলেন, কারও বিরুদ্ধে মাদক সেবন, বিক্রি কিংবা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা উচিত। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে হামলা, ভাঙচুর বা লুটপাট করার অধিকার নেই। এ ধরনের ঘটনা এলাকায় আরও বড় ধরনের বিরোধ সৃষ্টি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে।
স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে হামলা ও ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এ ঘটনায় মুক্তার আলীর পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হবে বলে জানান তারা।
এদিকে বসতবাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে দোয়ারাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতি : নূরুর রশীদ চৌধুরী, সম্পাদক : ফাহমীদা রশীদ চৌধুরী, সহকারী সম্পাদক : ফাহমীনা নাহাস
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : অপূর্ব শর্মা