শেকড় থেকে শিখরে পৌঁছা পর্যন্ত লক্ষে অটুট থাকতে হবে: অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ রানা
যুগভেরী ডেস্ক ::: সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মাসুদ রানা বলেছেন, শেকড় থেকে শিখরে পৌঁছা পর্যন্ত লক্ষে অটুট থাকতে হবে নতুবা স্বপ্নপূরণ সম্ভব নয়। দ্যা আল ক্যামিস্টে একটা বিখ্যাত কথা আছে ‘তুমি যখন কোনো কিছু মন থেকে চাও, তখন পুরো মহাবিশ্ব সেটা তোমাকে পাইয়ে দেওয়ার জন্য সাহায্য করবে’। অর্থাৎ তুমি যা হতে চাইবে সৃষ্টিকর্তা তোমাকে সেভাবেই গড়ে তোলার জন্য পৃথিবীর সবকিছু দিয়ে সাহায্য করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ কারোও সাধ্যের অতীত কোনো দায়িত্ব দেন না। তোমরা কলেজ, অভিভাবক, দেশ এবং সারাবিশ্বে একদিন বড় অবদান রাখবে, এই প্রত্যাশা রাখি।
তিনি এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন হতে উইমেন্স মডেল কলেজের ৬ জন শিক্ষার্থীর স্কলারশীপ পাওয়া উপলক্ষে আয়োজিত স্বপ্নজয়ের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। তিনি বলেন, আমরা সচরাচর দেখে থাকি এইচএএসসির পর শিক্ষার্থীরা নিজ দায়িত্বে বিশ্ববিদ্যালয় বা উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু উইমেন্স মডেল কলেজ শিক্ষার্থীদেরকে ছেড়ে না দিয়ে তাদেরকে নার্সিং করছে, স্বপ্নের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে, যা অবশ্যই প্রসংশার দাবী রাখে। ৬ জন শিক্ষার্থীর এশিয়ান ইউনিভার্সিটিতে ফুলফান্ডে স্কলারশিপ পাওয়ার পিছনে সবচেয়ে বেশি অবদান উইমেন্স মডেল কলেজের। নারীশিক্ষার জন্য যে পরিকল্পনা এবং উদ্যোগ এই কলেজ গ্রহণ করেছে তা সিলেটবাসীর জন্য গর্বের বিষয়।
২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার মালঞ্চ কমিউনিটি সেন্টারে সকাল ১১টায় ইএসডি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মনসুর আহমদ লস্করের সভাপতিত্বে এবং পৌরনীতি ও সুশাসন বিভাগের সিনিয়র প্রভাষক জনাব হেলাল হামামের সঞ্চালনায় শুরু হওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন চিফ একাউন্টস অফিসার ছালেহ আহমদ। স্বাগত বক্তব্য নিয়ে আসেন উইমেন্স মডেল কলেজের উপাধ্যক্ষ জাকিয়া সুলতানা এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন কলেজ অধ্যক্ষ আব্দুল ওয়াদুদ তাপাদার। এরপর একে একে কৃতি শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। ৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে স্বপ্নজয়ের অনুভূতি প্রকাশ করেন যথাক্রমে সুমাইয়া খান রুবাইয়া, মেরিন জামান রুহি, মুমতাহিনা তানহা, সোহানা আক্তার, আয়শা সিদ্দিকা, নাফিসা সাব্বির চৌধুরী।
উল্লেখ্য যে, ২০২৫ সালেও এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন থেকে উইমেন্স মডেল কলেজের দুইজন শিক্ষার্থী- তাছলিমা খানম ও তাওহিদা বুশরা তালুকদার স্কলারশীপ অর্জন করে। পাশাপশি গত বছর ঊসবৎমরহম ডড়সবহ খবধফবৎ রহ ঝঞঊগ অধিৎফ অর্জনকারী নাবিহা সাব্বির চৌধুরীরকেও এই অনুষ্ঠানে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শেভরন বাংলাদেশ ম্যানেজার, ফিল্ড কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স খন্দকার তুষারুজ্জামান এবং ইএসডি ফাউন্ডেশনের ভাইস-চেয়ারম্যান জেএমএইচজে ফেরদৌস। খন্দকার তুষারুজ্জামান তার বক্তব্যে শেভরনের এই উদ্যোগকে কাজে লাগানোর জন্য উইমেন্স মডেল কলেজের শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন ভবিষ্যতেও শেভরন কর্তৃক নারী শিক্ষার উন্নয়নে গৃহীত সকল উদ্যোগে উইমেন্স মডেল কলেজ সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবে। কলেজ অধ্যক্ষ আব্দুল ওয়াদুদ তাপাদার তার বক্তব্যে শেভরন বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন শেভরন ঝঁসসবৎ ঝপযড়ড়ষ পেগ্রামে শিক্ষার্থীদের স্পন্সর না করলে আজকের এই স্কলারশীপ অর্জন সম্ভব হত না। তিনি শিক্ষার্থীদের স্কলারশীপ প্রদান করায় এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। একই সাথে তিনি শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করার জন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকমন্ডলী এবং অভিভাবকদেরও ধন্যবাদ জানান। তিনি শিক্ষার্থীদের সাফল্যের খবরগুলো প্রচার করে সহযোগিতা করার জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে অভিভাবকদের মধ্যে অনুভূতি প্রকাশ করেন স্কলারশীপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী সোহানা আক্তারের গর্বিত বড় ভাই সুজন আহমদ এবং মুমতাহিনা তানহার গর্বিত পিতা গোলাম কিবরিয়া। এছাড়া বক্তব্য রাখেন বখতিয়ার বিবি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জেসমিন সুলতানা।
সবশেষে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে এবং কৃতি শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে অনুষ্ঠানের সভাপিত মনসুর আহমদ লস্কর অনুষ্ঠানের ইতি টানেন।-বিজ্ঞপ্তি
সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতি : নূরুর রশীদ চৌধুরী, সম্পাদক : ফাহমীদা রশীদ চৌধুরী, সহকারী সম্পাদক : ফাহমীনা নাহাস
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : অপূর্ব শর্মা