নিজস্ব সংবাদদাতা, গোয়াইনঘাট ::: সিলেটের গোয়াইনঘাটে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ এবং পরে তদন্তে গিয়ে পুলিশের উপস্থিতিতে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে। ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার আসামি জুবের আহমদকে (২১) কানাইঘাট উপজেলার তালবাড়ী (লক্ষীপুর) এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার সকাল ১০টার দিকে তার দুলাভাই শাহআলমের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার জুবের আহমদ গোয়াইনঘাট উপজেলার ৫ নম্বর পূর্ব আলীরগাঁও ইউনিয়নের পূর্ব দীঘিরপাড় এলাকার ছয়ফুল্লাহর ছেলে। পরে তাকে যথাযথ পুলিশ প্রহরায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে গত সোমবার বিকেলে পূর্ব দীঘিরপাড় এলাকায় এক তরুণীকে একা পেয়ে জুবের আহমদ জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছেন এমন অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই তরুণীর চিৎকার শুনে পাশের ঘর থেকে এক নারী এগিয়ে এসে বিষয়টি দেখতে পান। পরে স্থানীয়রা জুবেরকে আটক করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনাটি জানাজানি হলে দুই পরিবারের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং এ জন্য বৈঠকের দিনও নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে অভিযোগটি ধামাচাপা দিতে জুবেরের বিয়ে ঠিক করা হয় এবং পরে তার বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
তবে সালিশে বিচার না পেয়ে ভুক্তভোগীর বাবা কলিম উল্লাহ গত শনিবার দুপুরে গোয়াইনঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের পর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক তদন্তের দায়িত্ব দেন এসআই নাঈমুলকে।
পরে এসআই নাঈমুল ও এএসআই অনুপ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে তদন্তে যান। এ সময় কলিম উল্লাহর সঙ্গে তার ভাই ছয়ফুল্লাহর কথা-কাটাকাটি হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। একপর্যায়ে ছয়ফুল্লাহ দা দিয়ে কলিম উল্লাহর ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ ওঠে। দার আঘাতে কলিম উল্লাহর গলার বাম পাশে গুরুতর জখম হয় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় পুলিশ ছয়ফুল্লাহর ছেলে আমির উদ্দিনকে (২৭) আটক করে। তবে পুলিশের উপস্থিতিতে হামলার অভিযোগটি সঠিক নয় বলে তখন দাবি করেছিলেন গোয়াইনঘাট থানার ওসি মো. ওমর ফারুক।
এদিকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত জুবের আহমদকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে গোয়াইনঘাট থানার ওসি মো. ওমর ফারুক বলেন, জুবেরকে কানাইঘাট থানাধীন তালবাড়ী (লক্ষীপুর) এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
ওসি আরও জানান, নিহত কলিম উল্লাহর মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে দাফনের প্রক্রিয়া চলছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো হত্যার ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। ময়নাতদন্ত ও দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একই ঘটনায় ধর্ষণের অভিযোগ, অভিযোগের পর সালিশের উদ্যোগ, অভিযুক্তের বিয়ে এবং পরে থানায় অভিযোগের পর তদন্তে গিয়ে কলিম উল্লাহ নিহত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ বলছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতি : নূরুর রশীদ চৌধুরী, সম্পাদক : ফাহমীদা রশীদ চৌধুরী, সহকারী সম্পাদক : ফাহমীনা নাহাস
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : অপূর্ব শর্মা