গোয়াইনঘাট (সিলেট) প্রতিনিধি ::: সিলেটের জৈন্তাপুরে একদিকে সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় রহস্যজনকভাবে তিনটি গরুর মৃত্যু ঘিরে ছড়িয়ে পড়েছে ‘বাঘ আতঙ্ক’, অন্যদিকে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের পাশে একটি পূর্ণবয়স্ক পুরুষ মেছোবিড়ালের মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে সীমান্তবর্তী বনাঞ্চলের বন্যপ্রাণীর নিরাপত্তা। দুটি ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও কৌতূহল-দুটিই বেড়েছে।
জানা যায়, হরিপুর এলাকার বাঘের সড়ক ও ১০ নম্বর গ্যাসকূপের মধ্যবর্তী স্থান থেকে উদ্ধার হওয়া প্রাণীটিকে প্রথমে অনেকে মেছোবাঘ মনে করলেও পরে সারী রেঞ্জের বন কর্মকর্তা শাহ আলম ইসলাম নিশ্চিত করেন, এটি একটি সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী মেছোবিড়াল। ধারণা করা হচ্ছে, দ্রুতগতির কোনো যানবাহনের ধাক্কায় প্রাণীটির মৃত্যু হয়েছে। বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে মৃত প্রাণীটির দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।
এদিকে গত কয়েক সপ্তাহে শ্রীপুর চা-বাগান ও মেঘালয় সীমান্তসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় তিনটি গরুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রতিটির শরীরে গভীর আঁচড় ও কামড়ের চিহ্ন এবং পেটের নরম অংশ খাওয়া অবস্থায় পাওয়ায় এলাকাজুড়ে হিংস্র বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ছোট কোনো বন্যপ্রাণীর পক্ষে এভাবে পূর্ণবয়স্ক গরু শিকার করা সম্ভব নয়।
তবে বন বিভাগ এখনই বাঘ বা চিতাবাঘের উপস্থিতি নিশ্চিত করছে না। রেঞ্জ কর্মকর্তা শাহ আলম ইসলাম জানান, গরুগুলোর নমুনা ও আলামত বন্যপ্রাণী গবেষণা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য চলাচলের পথে ক্যামেরা ট্র্যাপ স্থাপন করা হয়েছে। ফুটেজ ও পরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে পেলেই প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন হবে।
তিনি বলেন, "বর্তমানে বাঘের উপস্থিতির সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ আমাদের হাতে নেই। গুজব নয়, বৈজ্ঞানিক তদন্তের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে। তবে সীমান্তবর্তী এলাকায় সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।"
বিশ্লেষণ বলছে, সীমান্তবর্তী পাহাড়ি বনাঞ্চলে মানুষের অনুপ্রবেশ, যানবাহনের চাপ এবং বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল সংকুচিত হওয়ায় মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে। জৈন্তাপুরের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই সংকটেরই একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতি : নূরুর রশীদ চৌধুরী, সম্পাদক : ফাহমীদা রশীদ চৌধুরী, সহকারী সম্পাদক : ফাহমীনা নাহাস
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : অপূর্ব শর্মা