যুগভেরী ডেস্ক ::: হাওর অঞ্চলের জলাশয়গুলো সম্পূর্ণ ইজারা মুক্ত রাখতে হবে ও জলমহাল ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় জনগণের পূর্ণ অংশগ্রহণ থাকতে হবে। বর্তমান সরকার সরকারি জলমহাল আইন ২০২৬ এর খসড়া প্রকাশ করেছে ও জনগণের মতামত যাচাই করছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ কৃষক ও গ্রামীণ মজুর ফেডারেশনের সুনামগঞ্জ জেলা শাখার আহবায়ক মিনহাজ আহমেদ বিবৃতিতে বলেন, সরকার কর্তৃক প্রণীত জলমহাল আইন ২০২৬ এর মাধ্যমে জনগণের স্বার্থ রক্ষা হবে না। এই আইনের সাথে বিগত জলমহাল নীতিমালা ২০০৯ এর বিশেষ কোনো পার্থক্য নেই। সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সালাউদ্দিন টুকু ৩ জুলাই নেত্রকোনায় জলমহাল ইজারামুক্ত রাখা নিয়ে যে বক্তব্য প্রদান করেছেন তার ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন । খসড়া আইনে দেখা যায় উন্মুক্ত জলাশয় ইজারা মুক্ত থাকার কথা উল্লেখ রয়েছে । কিন্তু বদ্ধ জলাশয় ইজারার আওতায় রেখেছে। এতে করে অনেক হাওর ও বিলসমূহ বদ্ধ জলাশয়ের আওতাভুক্ত থেকে ইজারার অধীন থাকবে। সরকার জলাশয়ের সীমানা নির্ধারণে অতীতের জরিপের উপর নির্ভর করেছে। উজান হতে ভাটিতে পানির প্রবাহের গতিপথ নির্ধারণ, জলসীমা নির্ধারণে যে সমীক্ষার প্রয়োজন ছিল সরকার তা করেনি। যে কারণে, বদ্ধ জলাশয় বা উন্মুক্ত জলাশয় নির্ধারণে বিভ্রান্তি তৈরি হবে। অপরদিকে আইনে উন্মুক্ত জলাশগুলোর বালি ও পাথরমহাল ইজারার আওতাভুক্ত রেখেছে। যা বিদ্যমান আইনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
প্রসঙ্গত বালু ও পাথর ইজারা প্রদান করার উদ্দেশ্যে বিগত সরকার বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ প্রণয়ন করেছিল। বালু, মাটি, পাথর নদীর তলদেশ হতে সংগ্রহ করা প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যাপক অর্থনৈতিক চাহিদা ও মূল্য রয়েছে। প্রকৃতি, পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় ব্যবস্থা না নিয়ে ব্যক্তি খাতে ইজারা জীবন ও জীবিকার উপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করছে।
খসড়া আইনে মৎস্যজীবীদের নিবন্ধিত হওয়াকে বাধ্যতামূলক করা ও তাদের বিশেষ সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। যা গ্রামীণ জনগণের স্বাধীন কর্মের অধিকারকে খর্ব করা হয়েছে। সরকারদলীয় ক্ষমতাশালীরাই মৎস্যজীবী হিসেবে নিবন্ধিত হচ্ছে ও একতরফা সুবিধা গ্রহণ করছে।
বাংলাদেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতেই সিংহভাগ হাওর ও প্রাকৃতিক জলাশয় রয়েছে। এখানে জলাভূমিতে মাছ ও কৃষি জমিতে ফসল উৎপাদন একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। জেলে ও কৃষক একে অন্য হতে আলাদা করা যাবে না। গ্রামীণ জনগণ যেরকম হাওরের পানিতে মাছ ধরার উপর নির্ভরশীল। তেমনি পানি শুকিয়ে গেলে সেখানে ফসল উৎপাদন করেন। প্রাকৃতিক জলাশয়গুলো সামাজিক সম্পত্তির অংশ। গ্রামীণ জনগণের জীবন ও বসতির সাথে জলাশয়ের সম্পর্ক গভীর ও নিবিড়। কাজেই জলমহাল নীতিমালা করতে হবে জনগণের কৃষি উৎপাদনের বিকাশের দিকটিকে প্রাধান্যে রেখে। যার উপর বৃহৎ অংশের জনগণের কর্মসংস্থান নির্ভরশীল। কৃষির সাথে সম্পর্কযুক্ত গ্রামীণ জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে কমিটির দ্বারাই পরিচালিত হতে হবে জলাশয়গুলো।
জলাশয় ও জমির সাথে সম্পর্কহীন বৃহৎ পুঁজি ব্যক্তি খাতে ইজারা দেওয়া ও জলাভূমি ব্যবস্থাপনা করা হবে জনগণের সাথে বেইমানি ও বেইনসাফি।
হাওর অঞ্চলবাসী নামক সংগঠন ও ট্রান্সপেরেন্সি ইন্টারন্যাশনাল সরকারি জলমহাল আইন ২০২৬ (খসড়া) উপর মতামত প্রদান করেছে। বিবৃতিতে এর তীব্র সমালোচনা করে বলা হয়, সংগঠনগুলো ব্যক্তি খাতে ইজারা প্রদানের পক্ষেই তাদের মতামত প্রদান হয়েছে। যা বৃহৎ লুটেরা পুঁজির স্বার্থ রক্ষা করবে। স্বাধীনতার পর হতে বাংলাদেশে এই নব্য লুটেরারা উৎপাদন হতে বিচ্ছিন্ন থেকেছে এবং প্রাকৃতিক সম্পদ লুট করে বিদেশে পাচার করেছে।
বিবৃতিতে জলাশয়গুলো সম্পূর্ণ ইজারা মুক্ত রেখে কৃষি ও মৎস্য চাষের সাথে সম্পর্কযুক্ত স্থানীয় জনগণের কাছে ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব অর্পণে নীতিমালা করার দাবি জানান।
সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতি : নূরুর রশীদ চৌধুরী, সম্পাদক : ফাহমীদা রশীদ চৌধুরী, সহকারী সম্পাদক : ফাহমীনা নাহাস
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : অপূর্ব শর্মা