যুগভেরী ডেস্ক ::: সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে মাত্র ৪ দিনে জমা পড়েছে ১৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। এছাড়া দানবক্সে মিলেছে স্বর্ণ ও বিদেশি মুদ্রা। সোমবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলা প্রশাসন ও ওয়াকফ এস্টেটের তত্ত্বাবধানে টাকা গোণা হয়। এরপর সন্ধ্যায় টাকার পরিমান জানান সিলেটের ওয়াকফ ওডিটর মো. সজল মিয়া।
জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের নির্দেশে মাজারের দানবাক্সের টাকা গোণা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে এই দানবাক্স বাসানো হয়। আর আজ সোমবার দুপুরে খোলা হয়।
তিনি জানান, এই সময়ে দানবাক্সে জমা পড়েছে ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা।
৭ আনা স্বর্ণালঙ্কার ও কিছু বিদেশি মুদ্রা।
এরআগে দুপুরে মাজার কর্তৃপক্ষের অসন্তোষের মধ্যেই সিলেট জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকা প্রকাশ্যে গণনা শুরু হয়। ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো সোমবার দুপুরে মাজারের দানবাক্সের টাকা গণনা শুরু হয়।
সিলেটের সদ্য বিদায়ী জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের উপস্থিতিতে টাকা গণনা শুরু হয়। তবে গণনা শুরুর কিছু সময় পরই সারওয়ার আলম চলে যান।
সংশ্লিস্টরা জানান, মোট ৩৬ জন স্বেচ্ছাসেবক গণনার কাজে অংশ নেন। আরও ২/৩ জন ছিলেন তদারকিকে। এছাড়া দরগাহ মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও এতে সহযোগীতা করেন। টাকা গোণা হয় মেশিনের সাহায্যে।
তদারকির কাজে যুক্ত একজন জানান, জোহরের নামাজের পর পর গণনার কাজ শুরু হয়।
তিনি বলেন, দানবাক্সে মধ্যে স্বর্ণ , রিয়াল, ডলার, পাউন্ডও পাওয়া গেছে। বাক্সে বেশিরভাগই এক হাজার ও ৫০০ টাকার নোট। এছাড়া ১০০/৫০ বা ১০/২০ টাকারও অনেক নোট রয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানের ৩টি ডেগে সিলগালা করেছে জেলা প্রশাসন। একইসাথে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাজারে দানবাক্স বসানো হয়েছে। মাজারের অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার কথা বলে ডেগ সিলাগালা করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিজস্ব দানবাক্স স্থাপন করা হয়।
তবে এ নিয়ে মাজার সংশ্লিস্টদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ দেখা দেয়। তারা মাজারে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের নিন্দা জানান। এ নিয়ে সমালোচনার মধ্যে রোববার জেলা প্রশাসককে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। তার এই হঠাৎ প্রত্যাহার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ক্ষোভ জানিয়ে রবি ও সোমবার সিলেটে বিক্ষোভ করা হয়।
সিলেট ছাড়ার আগে সোমবার তড়িঘড়ি করে তিনি দানবাক্সের টাকা গোণার কাজ শুরু করেন জেলা প্রশাসক। যদিও গত বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসক জানিয়েছিলেন, ১৫ দিন পর দানবাক্সের টাকা গণনা করা হবে।
রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সারওয়ার আলমকে সিলেটের জেলা পশাসক পদ থেকে প্রত্যাহার করে মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। এরআগে গত বছরের আগস্টে সিলেটের সাদাপাথর লুট নিয়ে তোলপাড়ের মুখে তাকে সিলেটের জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। মাত্র ১০ মাসের মাথায় তাকে প্রত্যাহার করে নেয়ো হলো।
সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতি : নূরুর রশীদ চৌধুরী, সম্পাদক : ফাহমীদা রশীদ চৌধুরী, সহকারী সম্পাদক : ফাহমীনা নাহাস
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : অপূর্ব শর্মা