যুগভেরী ডেস্ক ::: যেখানে আইনশিক্ষার হাতেখড়ি, এমপি হওয়ার গৌরব অর্জন করায় সেই প্রতিষ্ঠানে সংবর্ধিত হলেন সিলেট-৬ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী।
তাঁকে সংবর্ধনা দিতে গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সন্ধ্যায় আড়ম্বর অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সিলেট ল’ কলেজ। তিনি এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতি।
কলেজ প্রাঙ্গনে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন- আজ এখানে উত্থাপিত সিলেট ল’ কলেজ-কেন্দ্রীক সব দাবিই প্রয়োজনীয়। ইতোমধ্যে কয়েকটি দাবি সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বাস্তবায়ন করে দিবেন বলে আশ্বাস প্রদান করেছেন। এবার আমি যেই মন্ত্রণালয় থেকেই হোক বরাদ্দ নিয়ে এসে কলেজের একটি নতুন ভবনের ব্যবস্থা করে দিবো। প্রয়োজনে এ বিষয়ে আমরা প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত যাবো। তবে দ্রুত কলেজের পক্ষ থেকে একটি এস্টিমেট করে পাঠাতে হবে।
আরিফুল হক চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন- সিলেট ল’ কলেজকে আইন মহাবিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হবে। এ ক্ষেত্রে আমরা সবাই মিলে কাজ করবো।
সিলেট-৬ আসনের দুই উপজেলা গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার অভিজাত এলাকা উল্লেখ করে প্রধান অতিথি বলেন- ওখানে অনেক গুণীজন রয়েছেন। ওই জায়গায় মানুষের ভালোবাসায় এমরান আহমদ চৌধুরী এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর কাজে নিশ্চয়ই জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে। গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারের উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমরা সবাই মিলে কাজ করবো।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন- সিটি করপোরেশনে সরকার থেকে বাজেট কম আসে। নিজেদের আয়েই অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হয়। তবু আমরা এই কলেজের নান্দনিক গেট করে দেবো শীঘ্রই। এছাড়া সিলেট ল’ কলেজে ‘ছায়া আদালত’ স্থাপন সিসিকের অর্থায়নে এবং একটি শিক্ষার্থীর দাবির প্রেক্ষিতে দ্রুত একটি প্রজেক্টর প্রদান করা হবে।
সংবর্ধিত এমপি অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী সম্পর্কে বলেন- তিনি তৃণমূল থেকে সংগ্রাম করে উঠে আসা এক নেতা। দল তাঁকে মূল্যায়ন করেছে। এবার তিনি জনগণের দাবি-দাওয়াকে পূরণ করে দলকে আস্থার প্রতিফলন দেখাবেন। আর সেটি তিনি সুচারুরূপে করতে পারবেন বলেই আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস।
সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্যে সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও ল’ কলেজের গভর্নিং কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী বলেছেন- প্রথমত মহান রবের শুকরিয়া জ্ঞাপন করি আমাকে এই অবস্থানে পৌঁছানোর জন্য। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি আমাদের প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান ও আমার নির্বাচনী এলাকার সর্বস্তরের মানুষের প্রতি।
তিনি বলেন- আমাদের আদর্শিক নেতা মরহুম এম সাইফুর রহমানের অবদানেই আজ সিলেট ল’ কলেজ এই পর্যন্ত পৌঁছেছে। অবদান রয়েছে বর্তমান মাননীয় মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীরও। কলেজটিকে আরও নান্দনিক রূপ দিতে আমাদের সবাইকে এবার প্রচেষ্টা চালাতে হবে। সিলেটের দুজন শক্তিমান মন্ত্রী রয়েছেন। রয়েছেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ আমাদের সিসিক প্রশাসক। তাদের সবার কাছে দাবি- ল’ কলেজে অনার্স কোর্স চালুসহ আইন বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করার।
সিলেট জেলা বারের সমস্যাগুলো তুলে ধরে এমরান আহমদ চৌধুরী চৌধুরী সেসব সমাধানের দাবি জানান সংশ্লিষ্টদের কাছে।
কলেজের অধ্যক্ষ অ্যাড. সৈয়দ মহসিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং অ্যাডভোকেট আবুল খায়ের হেলাল ও জান্নাতুল নাজনিন আশার যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ডা. মো. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েছ লোদী, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আশিক উদ্দিন (পিপি), মহানগর সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম ইয়াহইয়া চৌধুরী সুহেল, জেলা জজ কোর্টের পিপি অ্যাডভোকেট বদরুল হক, শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. একে এম মুজিবুল হক, কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল আহাদ শোয়েব ও সাধারণ সম্পাদক রশীদ আহমদ মুন্না।
সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতি : নূরুর রশীদ চৌধুরী, সম্পাদক : ফাহমীদা রশীদ চৌধুরী, সহকারী সম্পাদক : ফাহমীনা নাহাস
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : অপূর্ব শর্মা