যুগভেরী ডেস্ক ::: দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকায় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার সুরমা নদী, কুশিয়ারা নদী, মনু নদী, খোয়াই নদী ও জুড়ি নদীর পানি সমতল বেড়ে প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী তিন দিন উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর এলাকায় ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে সুরমা, কুশিয়ারা, খোয়াই ও জুড়ি নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। ফলে সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে ধনু-বাউলাই ও ভুগাই-কংস নদীর পানিও বাড়তে পারে। এতে নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ জেলার কিছু এলাকায় সতর্কসীমা ছুঁতে পারে পানি।
মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত শ্রীমঙ্গলে সর্বোচ্চ ১৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বুধবার পর্যন্ত ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী (২৪ ঘণ্টায় ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার) থেকে অতি ভারী (২৪ ঘণ্টায় ৮৮ মিলিমিটারের বেশি) বর্ষণ হতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম।
তিনি আরও জানান, উত্তর বঙ্গোপসার ও এর আশে পাশের এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য রয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
সেই সঙ্গে মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
পূর্বাভাস আরও বলছে, ঢাকা, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। বাতাসের গতি থাকতে পারে ঘণ্টায় ৬০-৮০ কিলোমিটার। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে আবহাওয়া অধিদপ্তর ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলেছে।
এর বাইরে খুলনা, বরিশাল ও পটুয়াখালী অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আবাহওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ বলেন, ‘রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে আজ তুলনামূলক কম বৃষ্টি হতে পারে। তবে দেশের বাকি অঞ্চলে বৃষ্টি, বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।’
‘ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে বৃষ্টির প্রবণতা বেশি থাকবে,’ বলেন তিনি।
আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের এই প্রবণতা থাকতে পারে। তবে ২ মে থেকে কমতে শুরু করবে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকার সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের সুরমা, কুশিয়ারা, মনু, খোয়াই ও জুড়ি নদীর পানির সমতল বৃদ্ধি পেয়ে প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে।
এতে সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের কর্তব্যরত কর্মকর্তা পার্থ প্রতীম বড়ুয়া বলেন, ‘পানির সমতল বাড়লেও আজ মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। তবে আমরা আশঙ্কা করছি, আগামীকাল অতিক্রম করতে পারে।’
সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতি : নূরুর রশীদ চৌধুরী, সম্পাদক : ফাহমীদা রশীদ চৌধুরী, সহকারী সম্পাদক : ফাহমীনা নাহাস
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : অপূর্ব শর্মা