
সাজ্জাদ মাহমুদ মনির, ছাতক :::
চাকরি জীবন থেকে অবসর নিচ্ছেন প্রিয় শিক্ষক, এমন খবরে ছাতক উপজেলার সমতা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজে নেমে আসে আবেগঘন পরিবেশ।
বিদায় জানাতে বিদ্যালয়ে ছুটে আসেন সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকেও শিক্ষকরা উপস্থিত হন। প্রিয় শিক্ষককে একনজর দেখতে স্কুল গেটে ভিড় করেন স্যারের সব শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
এভাবেই সাবেক, বর্তমান শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে বিদায় নেন সমতা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ নাসির উদ্দিন।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে তাঁর অবসর গ্রহণ উপলক্ষে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে জাঁকজমকপূর্ণ রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয় স্থানীয়রা জানান, প্রায় ৪৩ বছরের শিক্ষকতা জীবনের শেষে অশ্রুসিক্ত ভালোবাসায় বিদায় নেন অধ্যক্ষ নাসির উদ্দিন। সকালে মোটরসাইকেল বহরের মাধ্যমে বিদায়ী শিক্ষককে স্কুল-কলেজ প্রাঙ্গণে নিয়ে আসা হয়।
তাঁকে সম্মাননা স্মারক, উপহার সামগ্রী ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা নগদ অর্থ, ক্রেস্ট ও পাঞ্জাবি প্রদান করেন প্রিয় শিক্ষককে। সর্বমোট প্রায় ১৫ লাখ টাকা সম্মাননা হিসেবে প্রদান করা হয়। এছাড়া ১৯৯৫ সালের এসএসসি ব্যাচের শিক্ষার্থীরা তাঁকে একটি ওমরাহ প্যাকেজ উপহার দেন।
অনুষ্ঠান শেষে ফুলে সাজানো একটি প্রাইভেটকারে করে তাঁকে বাড়িতে পৌঁছে দেন সাবেক শিক্ষার্থীরা। জানা যায়, ১৯৮৩ সালের ১ অক্টোবর সমতা স্কুল অ্যান্ড কলেজে অফিস সহকারী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন নাসির উদ্দিন। পরবর্তীতে ১৯৯১ সালের ১ অক্টোবর জুনিয়র শিক্ষক হিসেবে যোগদান করে ক্রমান্বয়ে সহকারী শিক্ষক ও সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১২ সালে সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং ২০১৭ সালে তৎকালীন অধ্যক্ষ মরহুম আব্দুস সামাদের আকস্মিক মৃত্যুতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন।
পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর তিনি অধ্যক্ষ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দীর্ঘ বর্ণাঢ্য কর্মজীবন শেষে ২০২৬ সালের ২ এপ্রিল তিনি অবসর গ্রহণ করেন।
বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে অধ্যক্ষ নাসির উদ্দিন বলেন, বিদায় অনেক কষ্টের। তবে আমার শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসীর এমন ভালোবাসা আমাকে মুগ্ধ করেছে। প্রতিষ্ঠানের যেকোনো প্রয়োজনে আমি পাশে থাকবো। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে প্রভাষক মোশাররফ হোসেন বলেন, স্যারের শূন্যতা কখনো পূরণ হওয়ার নয়। আমরা তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। তিনি একজন সাহসী ও আদর্শ শিক্ষক ছিলেন। যেকোনো বিপদে তাঁকে অভিভাবকের মতো পাশে পেয়েছি।
এসএসসি ১৯৯৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. আব্দুল আহাদ বলেন, স্যারের হাত ধরেই এই প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিক উন্নয়ন হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি অংশে তাঁর স্মৃতি জড়িয়ে আছে।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এএসএম আব্দুল মুমিনের সভাপতিত্বে এবং প্রভাষক গৌছুল হক নাঈমের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন হাজী ইলিয়াস মিয়া, গৌছ খাঁ, দবিরুল ইসলাম, পাইগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু হেনা, পঞ্চগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পারভেজ মিয়া, কালিপুর জামে মসজিদের মোতাওয়াল্লি নুরুল হক, আওলাদ মিয়া, এলপি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশিকুর রহমান, শিক্ষক এবিএম মাছুম, সমাজসেবক ফয়জুল বারী, ছাতক ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামাল উদ্দিন, প্রবাসী আব্দুল মতিন খোকন, ছাতক উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি আতাউর রহমান, প্রভাষক সিতাব আলী ও সিনিয়র শিক্ষক সালাহ উদ্দিনসহ অনেকে। ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন লন্ডন প্রবাসী সমাজসেবক মনছব আলী জেপি ও হীরা মিয়া।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক দিনকাল পত্রিকার ছাতক উপজেলা প্রতিনিধি সাজ্জাদ মাহমুদ মনির এবং দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের ছাতক উপজেলা প্রতিনিধি আবু বকর চৌধুরী। এ ছাড়া সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতি : নূরুর রশীদ চৌধুরী, সম্পাদক : ফাহমীদা রশীদ চৌধুরী, সহকারী সম্পাদক : ফাহমীনা নাহাস
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : অপূর্ব শর্মা