এশিয়ার প্রাচীনতম বাংলা সংবাদপত্র প্রথম প্রকাশ ১৯৩০

প্রিন্ট রেজি নং- চ ৩২

১৪ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
৩০শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
৮ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি

সিলেটের সাহিত্য-সংস্কৃতিকর্মীদের মুখোমুখি পীতম সেনগুপ্ত

Daily Jugabheri
প্রকাশিত ০৮ জুলাই, সোমবার, ২০২৪ ২১:৫৬:৫১
সিলেটের সাহিত্য-সংস্কৃতিকর্মীদের মুখোমুখি পীতম সেনগুপ্ত

যুগভেরী ডেস্ক ::: কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনের জানা-অজানা অনেক ঘটনা শোনালেন ভারতের কলকাতার প্রখ্যাত রবীন্দ্র-গবেষক পীতম সেনগুপ্ত। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে তাঁর প্রদত্ত একক বক্তৃতা মুগ্ধ হয়ে শোনেন সিলেটের সাহিত্য-সংস্কৃতিকর্মীরা। এরপর শ্রোতাদের রবীন্দ্র-বিষয়ক নানা জিজ্ঞাসারও জবাব দেন তিনি। গত রোববার সন্ধ্যা সাতটায় নগরের বারুতখানা এলাকার প্রথম আলো কার্যালয়ে ‘সিলেটের সাহিত্য-সংস্কৃতিকর্মীদের মুখোমুখি পীতম সেনগুপ্ত’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠান হয়। রাত সোয়া নয়টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান চলে। সিলেটের সাহিত্য-সংস্কৃতি-শিক্ষাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন। সিলেটের বিশিষ্টজনদের মধ্যে পীতম সেনগুপ্তের সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন কবি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা তুষার কর, নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য ইলিয়াস উদ্দীন বিশ্বাস, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. আনোয়ারুল ইসলাম এবং সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. বদরুল ইসলাম। পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রথম আলোর সহকারী সম্পাদক ফিরোজ চৌধুরী। পরে মুক্ত আলোচনা হয়।
মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন সিলেট জেলা কর আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সমর বিজয় সী শেখর, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট সিলেটের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনামুল মুনীর, মদনমোহন কলেজের সহযোগী অধ্যাপক রজত কান্তি ভট্টাচার্য্য, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম চৌধুরী কিম, মুক্তিযুদ্ধ-বিষয়ক গবেষক হাসান মোরশেদ, লেখক রণদীপম বসু ও বিশিষ্ট আইনজীবী অরবিন্দু দাশগুপ্ত। শুরুতেই গবেষক পীতম সেনগুপ্তকে ফুল দিয়ে বরণ করে সূচনা বক্তব্য দেন সুমনকুমার দাশ।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনদের মধ্যে বালাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ লিয়াকত শাহ ফরিদী, লিডিং ইউনিভার্সিটির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও কবি মোস্তাক আহমাদ দীন, লেখক জামান মাহবুব, বিধূভূষণ ভট্টাচার্য ও পুলিন রায়, বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব শামসুল বাসিত শেরো ও মু. আনোয়ার হোসেন রনি, কবি সুমন বনিক, এমসি কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ বিলাল উদ্দিন, সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের প্রধান প্রণবকান্তি দেব, বাংলাদেশ বেতার সিলেট কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক প্রদীপ চন্দ্র দাস, নাট্যকার হুমায়ূন কবির জুয়েল ও রীমা দাস, সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেটের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক আহমদ, জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক বিপ্লব কুমার সরকার, রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী জয়িতা তিথি উপস্থিত ছিলেন।
গবেষক পীতম সেনগুপ্ত বক্তব্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিঠিপত্র, গান ও গায়কী, কাদম্বরী দেবী, জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্বরলিপিকারসহ নানা রবি-জীবনের আলোচিত-অনালোচিত নানা বিষয়ে কথা বলেন। পীতম সেনগুপ্ত বলেন, রবীন্দ্র-জন্মশতবর্ষের পর রেকর্ড কোম্পানিগুলো বাণিজ্যিক লাভের আশায় ক্রেতার সংখ্যা বৃদ্ধির দিকেই নজর দিয়েছে। ফলে তুলনামূলকভাবে জনপ্রিয় রবীন্দ্রসংগীতের রেকর্ডেই বাজার ভরে থেকেছে। পিছিয়ে গেছে অল্পশ্রুত গানের ডালি। আসলে বাঙালির জীবনে রবীন্দ্রনাথ যতটুকু চর্চা হওয়ার কথা ছিল, সেটা এখনো হয়নি।
অনুষ্ঠানে দি রয়েল এমসি একাডেমির অধ্যক্ষ ও লেখক মো. মুহাইমীন আরিফ, পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা, গদ্যকার-শিক্ষক সঞ্জয় কুমার নাথ, লোকসংস্কৃতি গবেষক-ব্যাংক কর্মকর্তা পার্থ তালুকদার, সিলেট সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা সাজলু লস্কর, সাংবাদিক ইয়াহ্ইয়া মারুফ, বাপ্পা মৈত্র, মিঠু দাস জয়, শফিকুর রহমান চৌধুরী ও এম এ ওয়াহিদ চৌধুরী, শিল্পী খোকন ফকির, ইকবাল সাঁই ও লিংকন দাস, লেখক আশালতা ও কুমার দীপ্ত প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বিভিন্ন কলেজ-বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এ আয়োজনে সহযোগিতায় ছিল প্রথম আলো বন্ধুসভা সিলেটের সদস্যরা।

সংবাদটি ভালো লাগলে স্যোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন