:: 26-10-2020  
menu
(পরীক্ষামূলক সম্প্রচার)

টিআইবির প্রতিবেদন : বুড়িমারী-মংলা বন্দরে বছরে ২৩ কোটি টাকার ঘুষ লেনদেন

ন্যাশনাল ডেস্ক: বুড়িমারী স্থলবন্দর ও শুল্ক স্টেশন এবং মোংলা বন্দর ও কাস্টম হাউজের আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়ায় বছরে প্রায় ২৩ কোটি টাকার ঘুষ লেনদেন হয় বলে এক গবেষণায় জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি)। রোববার রাজধানীর ধানমন্ডিতে সংস্থাটির কার্যালয়ে এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য প্রকাশ করে টিআইবি। ‘মংলা বন্দর ও কাস্টম হাউজ এবং বুড়িমারী স্থলবন্দর ও শুল্ক স্টেশন : আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়ায় সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এই গবেষণা প্রতিবেদনে বন্দরে ব্যাপক দুনীর্তির তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানায় টিআইবি। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই দুই বন্দরের সব ক্ষেত্রেই শতভাগ দুর্নীতি রয়েছে বলে দাবি করে সংস্থাটি।

News image

গবেষণার তথ্য উপাত্ত তুলে ধরে টিআইবি জানায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বুড়িমারী স্থলবন্দরে শুল্ক স্টেশনে ঘুষের লেনদেন হয়েছে দুই কোটি ৮৫ লাখ টাকা। আর বন্দর কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে হয়েছে ৪৮ লাখ টাকা। এছাড়া শ্রমিক ইউনিয়নের মাধ্যমে বছরে ট্রাক থেকে চাঁদা তোলা হয় পাঁচ কোটি চার লাখ টাকা। অন্যদিকে মোংলা বন্দরেরও বিভিন্ন পর্যায়ে ঘুষ লেনদেন হয় প্রায় ২০ কোটি টাকা।

সেবাগ্রহীতারা বন্দরের দীর্ঘসূত্রতা ও হয়রানির শিকার হওয়ার ভয়েই ঘুষ দিয়ে থাকে বলে জানায় টিআইবি। সেই সঙ্গে শুল্কফাঁকির জন্যও অনিয়মের পথ বেছে নিচ্ছে বলে মনে করে সংস্থাটি। বন্দরের ডিজিটাইজেশন এবং অবকাঠামোগত দুর্বলতা নিরসন করা গেলে দুর্নীতি অনেকাংশেই কমানো সম্ভব বলে মনে করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘দীর্ঘ অনুসন্ধান ও গবেষণায় আমরা বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি, বন্দর দুইটিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং কাস্টমসের সব পর্যায়ে শতভাগ দুর্নীতি রয়েছে। এর পক্ষে আমাদের কাছে শত শত তথ্য প্রমাণ থাকলেও, তা আইনিভাবে প্রমাণের কোনো সুযোগ টিআইবির নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বন্দরে দুই প্রকার দুর্নীতি। একটি হচ্ছে যোগসাজশের দুর্নীতি, অন্যটি বলপূর্বক অর্থ আদায়ের দুর্নীতি; যেটি ঘুষ আদায়ের মাধ্যমে। এগুলো উভয় বন্দরেই দেখতে পেয়েছি আমরা। এটা এক ধরনের প্রাতিষ্ঠানিকতায় রূপ নিয়েছে। সেখানে যারা অংশীজন তাদের সবারই এক ধরনের সিন্ডিকেটের মতো যোগসাজশ আমরা দেখতে পাই।’

ইফতেখাররুজ্জামান বলেন, ‘যদি দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ সত্যিকার অর্থে আমরা চাই, কর্তৃপক্ষ চায়, তাহলে সেটা সম্ভব। শুধু যেটা দরকার, সেটা হচ্ছে সদিচ্ছা। যারা দুর্নীতির সাথে জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে এর মধ্য দিয়ে সকলের কাছে এ বার্তা পৌঁছায় যে— অনিয়ম করলে, দুর্নীতি করলে শাস্তি পেতে হয়।’