:: 25-9-2020  
menu
(পরীক্ষামূলক সম্প্রচার)

হাতের শক্তি ফিরলে সামনের মাসেও খেলতে পারি: সাকিব

সুরমা ভয়েস ডেস্ক : যখন গিয়েছিলেন, চেহারায় ছিল শঙ্কার ছায়া। কণ্ঠে ছিল সংশয় ও উৎকণ্ঠা। ফেরার সময় সেই সাকিব আল হাসানের মুখেই হাসি। অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে ফিরে শোনালেন আশার কথা। আঙুলে শক্তি ফিরলে মাঠে ফিরতে পারেন আগামী মাসেও। চোট পাওয়া আঙুলে সংক্রমণ হওয়ায় ঢাকার হাসপাতালে সাময়িক চিকিৎসার পর গত ৫ অক্টোবর রাতে অস্ট্রেলিয়া যান সাকিব। মেলবোর্নের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন সপ্তাহখানেক। এই সময়টায় তার আঙুলের অবস্থা আর ফেরার সম্ভাব্য সময় নিয়ে বাতাসে ভেসেছে অনেক গুঞ্জন। মাঠে ফেরার সম্ভাব্য সময় সুনিশ্চিত করে বলতে পারছেন না সাকিব নিজেও। তবে রোববার দুপুরে দেশে ফিরে বিমানবন্দরে সংবাদমাধ্যমকে যা বললেন, ভাগ্যটাকে পাশে পেলে ফিরতে পারেন অনুমিত সময়ের বেশ আগেই।

News image

“এটা আসলে এমন একটি সমস্যা, যেটি ঠিক হওয়ার কোনো টাইম ফ্রেম নেই। হতে পারে যে সামনের মাসেও খেলতে পারি। এখন হাতে ব্যথা নেই, খুব ভালো অনুভব করছি। গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে, হাতের শক্তি কতক্ষণে ফিরে আসে। রিহ্যাবের মাধ্যমে তাড়াতাড়ি ফিরে আসতে পারে। যদি আসে, তাহলে সামনের মাসেও খেলে ফেলতে পারি।”

এক মাস নাকি কতদিন, সেটার উত্তর জানা যাবে আসলে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শেষে। তবে ব্যথা ফিরে এলে তখন আবার ব্যবস্থা নিতে হবে অবস্থা বুঝে।

“রিহ্যাবের পর যদি ব্যথা অনুভব করি, তাহলে আবার অপেক্ষা করতে হবে যে কখন সার্জারি করাতে পারব। এটা আসলে অনিশ্চিত। একটা ভালো ব্যাপার যে ইনফেকশন হওয়ার পর এটা (ব্যথা) অনেক কমে গেছে। ব্যথা না থাকলে সার্জারি ছাড়াই খেলা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব। সেটা যদি হয়, তাহলে এর চেয়ে ভালো কিছু আর হয় না।”

“তবে নিশ্চিত করে বলা মুশকিল। এজন্যই বললাম যে এক মাস পরও খেলতে পারি, আবার ৬ মাসও লাগতে পারে। আশা করি, এক মাস পরই পারব। এরপরও যেহেতু শক্তি ফিরে আসার ব্যাপার আছে, এক মাসের চেয়ে একটু বেশিও লাগতে পারে।”

অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার আগে মূল দুশ্চিন্তা ছিল তার আঙুলের সংক্রমণ নিয়ে। সংক্রমণ না সেরে ওঠা পর্যন্ত অস্ত্রোপচার করা যাবে না, এখানকার ডাক্তাররাই বলে দিয়েছিলেন। ফেরার পর সাকিব সুখবর শোনালেন দুটি নিয়েই।

“ইনফেকশন নিয়ন্ত্রণে আছে। তবে প্রতি সপ্তাহে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে দেখতে হবে এটা বাড়ল কিনা বা নতুন কোনো সমস্যা হলো কিনা। তবে এখনও পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে আছে।”

“সার্জারি ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে করা যাবে না। কারণ সংক্রমণ যদি হাড়ের ভেতরে থাকে, তাহলে সেটা সারার সম্ভাবনা নেই। কারণ ওখানে রক্ত যায় না। এটা নিশ্চিত হওয়ার জন্যই ৬ থেকে ১২ মাসের ভেতর সার্জারি করা যাবে না। তবে ভালো দিক হচ্ছে, সার্জারি না করেও খেলা সম্ভব হতে পারে। আমি বলুন আর ফিজিওর পরামর্শ, ওই দিক নিয়েই এখন চিন্তা করা হচ্ছে যে সার্জারি ছাড়া কিভাবে খেলা যায়।”

সাকিব খেলতে না পারলে দলকে ভুগতে হয় প্রবলভাবে। হিমশিম খেতে হয় সঠিক কম্বিনেশন সাজাতেই। জিম্বাবুয়ে সিরিজেও একাদশ সাজাতে এই পরীক্ষায় পড়তে হবে টিম ম্যানেজমেন্টকে। এই সিরিজে চোটের কারণে খেলতে পারবেন না তামিম ইকবালও। তবে এই দুজনকে ছাড়া পাকিস্তানকে হারিয়ে যেভাবে এশিয়া কাপের ফাইনালে খেলেছে বাংলাদেশ, সেটি থেকেই অনুপ্রেরণা নিতে বলছেন সাকিব।

“এটা আসলে খেলাধুলার অংশই, দুই-একজন খেলোয়াড় সবসময় ফিট থাকবে না। সবসময় খেলতেও পারবে না। তবে কেউ না থাকা মানে নতুন কারও সুযোগ। আশা করি তারা সুযোগ কাজে লাগাতে পারবে ও ভালো করবে। কারও জন্য কিছু অপেক্ষা করে থাকে না। আমি আশা করি, বাংলাদেশ আরও ভালো করবে। আমাকে ও তামিমকে ছাড়া যদি এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলতে পারি, তাহলে জিম্বাবুয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে না জেতার কারণ দেখি না।”