:: 25-9-2020  
menu
(পরীক্ষামূলক সম্প্রচার)

শ্রীমঙ্গলে পাঁচ মাস ধরে ভাঙ্গা দুই সেতু, ভোগান্তি দশ গ্রামের মানুষ

নিজস্ব সংবাদদাতা, শ্রীমঙ্গল মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে দুটি সেতু ভেঙ্গে পড়ায় ভোগান্তি পোহাচ্ছেন দশ গ্রামের মানুষ। জানা যায়, উপজেলার উদনা ছড়া পাড় ভেঙ্গে গতিপথ হারিয়ে গ্রামের ভেতর পানি প্রবেশ করে একটি সেতু ধ্বসে যান চলাচল বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলো। চলাচলের জন্য গ্রামবাসী নিজেরাই প্রথমে ভাঙ্গা অংশে মাটি দিয়ে কোন রকমে চলাচলের ব্যবস্থা করে। পরে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে বালুর বস্তা দিয়ে ছোট যান চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়।

News image

এরপর প্রায় পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো সেতুটি পুণনির্মাণ করা হয়নি। ফলে ঝুঁকি নিয়েই ব্রীজ পাড় হচ্ছেন স্থানীয় উদনারপাড় গ্রাম ও আশপাশের মতিগঞ্জ, নওয়াগাঁও, কাজিরগাঁও, রসুলপুর, ডোবারগাঁও, জিলাদপুরসহ দশটি গ্রামের মানুষ।

সরেজমিন উপজেলার আশিদ্রোন ইউনিয়নের এই দুটি স্থান ঘুরে দেখা যায়, আশিদ্রোন ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড এলাকা উদনারপার গ্রামের প্রধান সড়কটির উপরে নির্মিত ব্রীজের জায়গায় মাটি ও বালুর বস্তা দিয়ে কোন রকমে ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখান দিয়ে কোন রকমে যাতায়াত করছে রিকশা, সিএনজিসহ ছোট ছোট যানবাহন গুলো।

অপরদিকে মাধবপাশা গ্রাম এলাকার জোড়াপুল সংলগ্ন ব্রিজটির অবস্থা আরো শোচনীয়। এই রাস্তা দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে রিকশা, সিএনজি ও অটো রিকশা চলাচল করছে। সারা দিনে কয়েকটি ছোট পিকআপ ভ্যান অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে এই অংশটুকু পাড়ি দেয়, যাত্রীবাহী যানবাহনগুলোর যাত্রীদের আগেই নামিয়ে দেওয়া হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা করিম উল্লা বলেন, দুইটি সেতুর উপর দিয়ে ১০ গ্রামের মানুষ চলাচল করে থাকেন। পাঁচ মাস আগে ব্রিজ দেবে যাওয়ার কারনে খুবই কষ্ট করে আমাদের চলাচল করতে হচ্ছে।

এই সড়কের সিএনজি চালক খোরশেদ আহমেদ বলেন, ব্রিজ ভাঙ্গার কারনে গাড়িতে মালামাল নিয়ে এই রাস্তায় চলাচল করা যাচ্ছে না। ৫ কিলোমিটার সড়ক আমাদের ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছতে হয়। এতে আমাদের পরিবহন খরচ বেড়ে যায়। তাছাড়া ভেঙ্গে পড়া ব্রিজেরর বর্তমান অবস্থা খুবই করুণ। এই রাস্তা দিয়ে যেতে হলে যাত্রীদের নামিয়ে খুবই কষ্ট করে যানবাহন পার করতে হয়। খুব দ্রæত এই ব্রিজ নির্মান করা হোক।

আশিদ্রোণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রণেন্দ্র প্রসাদ বর্ধন বলেন, ব্রিজের জন্য এলাকার সমস্যার কথা ভেবে আমরা ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষে সাময়িক কাজ করিয়েছিলাম। ব্রীজ তৈরী করতে হলে পাশ দিয়ে বিকল্প রাস্তা তৈরী করতে হবে, ধান কাটার মৌসুম শেষ হলেই খেতের জায়গায় বিকল্প রাস্তা তৈরী করে কাজ শুরু করা যাবে বলে উপজেলা প্রকৌশলীর সাথে আলোচনা করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রকৌশলী সঞ্জয় মোহন সরকার বলেন, আশিদ্রোন ইউনিয়নের জোড়া পুলের কাছের ব্রিজের জন্য এসটিমেট উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।  এটি অনুমোদন হয়ে গেলে আমরা টেন্ডার আহবান করে কাজ শুরু করে দিবো। আর মতিগঞ্জ ভুজপুরের উদনারপাড়ের ব্রিজটি হচ্ছে গ্রাম্য সড়ক। জনগুরুত্ব বিবেচনায় এটাও আমরা তৈরী করার ব্যবস্থা করবো। তবে সময় লাগবে।